ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জামায়াত জোটে এখনও ১৩ আসনে সুরাহা হয়নি

জামায়াত জোটে এখনও ১৩ আসনে সুরাহা হয়নি
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪১ | আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৫২

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতীক হওয়ার পরও জামায়াতে ইসলামীর জোটে আসন নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। নরসিংদী-২, সুনামগঞ্জ-১, মৌলভীবাজার-৩ এবং চট্টগ্রাম-৮ আসন জোট শরিকদের ছেড়ে দিলেও জামায়াতের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। মোট ১৩টি আসনে জোটের একাধিক দলের প্রার্থী রয়েছেন। 

মৌলভীবাজার-৪ আসন নিয়ে এনসিপি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের, ফরিদপুর-৪ আসন নিয়ে জামায়াত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের টানাপোড়েন চলছে। তারা এসব আসনে নিজেকে জোটের একক প্রার্থী হিসেবে দাবি করছেন। 

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আবদুল হালিম সমকালকে বলেছেন, দলের চার প্রার্থী কর্মী-সমর্থকদের চাপের কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। প্রতীক বরাদ্দ হলেও তারা নির্বাচনে থাকবেন না। দল থেকে তাদের তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। শরিকদের প্রার্থীরাই এসব আসনে জোটের প্রার্থী হবেন। বিকল্প কিছু ভাবার সুযোগ নেই। জামায়াতের সর্বস্তরের নেতাকর্মী শরিক দলের প্রার্থীর পক্ষে বৃহস্পতিবার (আজ) থেকে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবে। 

আদালতের নির্দেশে এক দফা স্থগিত হওয়ায় পাবনা-১ এবং পাবনা-২ আসনে এখনও প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়নি। বাকি ২৯৮ আসনের বণ্টন অনুযায়ী জামায়াত ২১৫, এনসিপি ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত ২৩, খেলাফত মজলিস ১২, এলডিপি ৬, এবি পার্টি ও নেজামে ইসলাম পার্টি তিনটি করে এবং বিডিপি দুটি আসনে নির্বাচনে একক প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বাকি চারটি আসন উন্মুক্ত রাখা হয়। 
কুমিল্লা-৫ আসনে জামায়াত ও এবি পার্টি, ময়মনসিংহ-১০ আসনে জামায়াত ও এলডিপি এবং ফরিদপুর-৪ আসনে জামায়াত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী রাখার সমঝোতা হয়েছিল। সমঝোতা অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং খেলাফতের অপর অংশের প্রার্থী থাকবে।

এ হিসাবে জামায়াতের প্রার্থী সংখ্যা হবে ২১৮। পাবনা-১ এবং পাবনা-২সহ দলটি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোট ২২০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা। যদিও দলটি চরমোনাই পীরের সম্মানে বরিশাল-৫ আসন থেকে প্রার্থী প্রত্যাহার করিয়েছে। তাই ২১৯ প্রার্থী থাকার কথা থাকলেও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রয়েছেন ২২৫ জন। মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ২৩ আসনে ছাড় পেলেও প্রার্থী দিয়েছে ২৯ আসনে। সুনামগঞ্জ-৩ আসনে খেলাফত মজলিস, মৌলভীবাজার-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপি, ফেনী-২ আসনে এবি পার্টির বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়েছে। 

ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) বাংলাদেশ খেলাফতের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ করেছেন জামায়াতের প্রার্থী সরোয়ার হোসেন। গতকাল সন্ধ্যায় ভাঙ্গা পৌর বাজারে দলীয় কার্যালয়ে এনসিপি এবং জোটের অন্যান্য দলের নেতাদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফরিদপুর-৪ আসনকে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ খেলাফতের মিজানুর রহমান মোল্লা নিজেকে জোটের একক প্রার্থী দাবি করে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অভিযোগ করেছেন।  

সরোয়ার হোসেনের অভিযোগ, একটি ‘বড় দল’ জামায়াতের নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। বাংলাদেশ খেলাফতের প্রার্থী মিজানুর রহমান সমকালকে বলেছেন, জোট থেকে তাঁকে মনোনীত করা হয়েছে।

নরসিংদী-২ আসনে জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি আমজাদ হোসেন মঙ্গলবার শেষ দিনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। গতকাল তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পান। তবে আবদুল হালিম বলেছেন, সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। প্রতীকে পেলেও নির্বাচনে থাকবেন না আমজাদ হোসেন। সারোয়ার তুষার জোটের প্রার্থী। তাঁর পক্ষে নির্বাচন করবেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

চট্টগ্রাম-৮ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করা জামায়াতের প্রার্থী মো. আবু নাসের গতকাল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এই আসনে জোটের প্রার্থী এনসিপির জোবাইরুল হাসান আরিফ। আগের দিন তিনি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেছিলেন। পরে তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়। 

সিরাজগঞ্জ-৬ আসন এনসিপিকে ছাড়া হলেও এবি পার্টির প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। সুনামগঞ্জ-১ আসন নেজামে ইসলামকে ছাড়া হলেও জামায়াত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা তালাবদ্ধ করে রাখায় তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে নেজামে ইসলামকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত। 

আরও পড়ুন

×