ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

৪টি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক

সংবাদ সম্মেলনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট

৪টি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের  সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক সংস্কারে চারটি প্রশ্ন একত্র করে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়েছে বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অবস্থান তুলে ধরে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ইশতেহার পড়েন জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
ইশতেহার পাঠের আগে তিনি বলেন, জনগণের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণ কার্যত ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের শাসন নিশ্চিত করাই গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের মূল লক্ষ্য।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যেভাবে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছে এবং সংবিধানের মৌলিক সংস্কারসংক্রান্ত বিষয়গুলোকে চারটি প্রশ্নের একটি প্যাকেজে এনে গণভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থি। পৃথক বিষয়ে জনগণের মতামত জানানোর সুযোগ না রেখে একসঙ্গে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা জনমতকে সীমাবদ্ধ করে।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট জানায়, তারা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশ নিলেও জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি। কারণ, ৮ মাসের আলোচনায় উত্থাপিত নোট অব ডিসেন্টের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চূড়ান্ত সনদে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি বলেও অভিযোগ করে জোটটি। রাষ্ট্রের চার মূলনীতি বহাল রাখার প্রস্তাব গ্রহণ না করার বিষয়েও তারা আপত্তি জানায়।

বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আদালতে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তাব নাগরিক অধিকারের পরিপন্থি। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকার এখনও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারেনি। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবশালী প্রার্থীরা প্রকাশ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মাজার, খানকাহ, আখড়া ও মন্দিরে হামলা, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ, নারীর ওপর সহিংসতা ও সাইবার বুলিং প্রমাণ করছে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান হয়নি। বরং মব সন্ত্রাস ফ্যাসিবাদকে আরও উস্কে দিচ্ছে। এমন বাস্তবতায় জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলেই বাম ও প্রগতিশীল শক্তিগুলো একত্র হয়ে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ঘোষিত ইশতেহারে ১৮টি বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। এর মধ্যে রয়েছে–রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, আইনের শাসন ও দুর্নীতি দমন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কার, শ্রমিক অধিকার ও ট্রেড ইউনিয়ন স্বাধীনতা, নারী অধিকার ও লিঙ্গসমতা, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রাগিব আহসান মুন্না, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক মাসুদ রানা এবং জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুন নুজহাত মনীষা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×