তিন হাজারের বেশি কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হচ্ছে বছরে
১৩ জেলা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০:০৮ | আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০:৩৭
দেশে এখনও প্রতিবছর তিন হাজারের বেশি নতুন কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হচ্ছে। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে দীর্ঘ মেয়াদে কুষ্ঠ রোগের সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস উপলক্ষে গতকাল রোববার রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। জাতীয় কুষ্ঠ রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল– ‘কুষ্ঠ রোগ নিরাময়যোগ্য, সামাজিক কুসংস্কারই প্রকৃত বাধা’।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জনস্বাস্থ্য নির্মূল বলতে প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যায় একজনের কম কুষ্ঠ রোগী থাকাকে বোঝায়। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে এই মানদণ্ডে পৌঁছালেও বর্তমানে অন্তত ১৩ জেলা এখনও কুষ্ঠ রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব জেলায় রোগী শনাক্তের হার তুলনামূলকভাবে বেশি।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৯টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অংশ নেন। আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাইকোব্যাকটেরিয়াল ডিজিজ কন্ট্রোলের (এমবিডিসি) সহকারী পরিচালক ও জাতীয় কুষ্ঠ রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ব্যবস্থাপক ডা. আফসানা আলমগীর খান। তিনি জানান, জাতীয় কুষ্ঠ রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ১৯৮৫ সালে নির্বাচিত কয়েকটি এলাকায় শুরু হয় এবং ১৯৯৬ সালে সারাদেশে সম্প্রসারিত করা হয়। এর ফলে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ কুষ্ঠ রোগে জনস্বাস্থ্য নির্মূলের মানদণ্ডে পৌঁছায়। তিনি বলেন, মানদণ্ড অর্জন করা হলেও বাস্তবে কুষ্ঠ রোগ পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। বর্তমানে দেশের ১৩ জেলা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত, যেখানে রোগী শনাক্তের হার প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যায় পাঁচজন পর্যন্ত।
ডা. আফসানা আলমগীর খান জানান, গত বছরের প্রথম ৯ মাসে দুই হাজার ৬৪০ জন নতুন কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালে সারাদেশে নতুন রোগীর সংখ্যা ছিল তিন হাজার ৫১৯ জন এবং এর আগের বছরে এই সংখ্যা ছিল তিন হাজার ৬৩৯ জন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বাড়ানো, নজরদারি ও মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বর্তমানে নির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই। পাশাপাশি অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। খাতভিত্তিক কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সহায়তায় সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠ রোগ শূন্যে নামিয়ে আনার বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকায় বিশেষ স্ক্রিনিং ক্যাম্প, নিয়মিত কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং এবং সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। কুষ্ঠ রোগ নির্মূলে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি সামাজিক কুসংস্কার দূর করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
- বিষয় :
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
- কুষ্ঠ রোগী