ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দেশে ২ হাজার ২০০ প্রজাতির প্রাণির অবস্থা যাচাই হবে

দেশে ২ হাজার ২০০ প্রজাতির প্রাণির অবস্থা যাচাই হবে
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০:১৬

সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের প্রাণিকূলের রেড লিস্ট হালনাগাদ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশীয় অর্থায়নে ও দেশীয় বিশেষজ্ঞদের সক্রিয় অংশগ্রহণে পরিচালিত এই উদ্যোগকে দেশে বিজ্ঞানভিত্তিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হোটেলে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার-আইইউসিএন বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ বন বিভাগ কর্মশালার আয়োজন করে।

আয়োজনকরা জানান, ২০১৫ সালে পরিচালিত জাতীয় মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে নতুন এই উদ্যোগের আওতায় প্রায় ২,২০০টি প্রাণি প্রজাতির সংরক্ষণ অবস্থা মূল্যায়ন ও পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে ২০১৫ সালে মূল্যায়িত ১,৬০০টি প্রজাতির পুনর্মূল্যায়ন, এবং ৬০০টি নতুন প্রজাতির প্রথমবারের মতো মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নতুন প্রজাতি ও নতুন ট্যাক্সোনমিক গ্রুপ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে দেশের প্রাণিবৈচিত্র্যের একটি হালনাগাদ, সমন্বিত ও বৈজ্ঞানিক জাতীয় চিত্র তৈরি হবে। যা ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ কেবল তালিকা প্রণয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার করাও আমাদের সমান দায়িত্ব।

তিনি বলেন, রেড লিস্টের মূল লক্ষ্য হলো হুমকির মুখে থাকা প্রজাতিগুলোকে ধীরে ধীরে সংকটের ‘লাল’ স্তর থেকে উন্নতির পথে নিয়ে আসা, যার জন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও কৌশলগত সংরক্ষণ উদ্যোগ। পাশাপাশি তিনি বন্যপ্রাণির প্রতি সমাজে সহনশীলতা ও ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এবং দেশীয় বিশেষজ্ঞদের সক্রিয় অংশগ্রহণে জাতীয় প্রাণিকুলের রেড লিস্ট হালনাগাদ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ দেশীয় জ্ঞান ও সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় সুযোগ তৈরি করছে এবং হালনাগাদকৃত রেড লিস্ট জাতীয় পর্যায়ে সংরক্ষণ পরিকল্পনা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক দলিল হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সামুদ্রিক মাছের প্রজাতিসমূহের একটি বিস্তৃত ও বিজ্ঞানভিত্তিক মূল্যায়ন পরিচালিত হচ্ছে। এটি বন বিভাগের পাশাপাশি মৎস্য মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী বলেন, হালনাগাদকৃত রেড লিস্টের মাধ্যমে ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এক দশকে দেশের প্রাণিকূলের সংরক্ষণ অবস্থার একটি স্পষ্ট ও বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন পাওয়া যাবে। এটি বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৬ বাস্তবায়নে প্রজাতিভিত্তিক সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক মো. ছানাউল্লাহ পাটোয়ারী, প্রকল্পের টিম লিডার ড. মোহাম্মদ আলী রেজা খান এবং আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা এস. হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন

×