ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তরুণ ভোটারদের সঙ্গে জাইমার ‘চায়ের আড্ডা’

নারীদের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব আরোপ

তরুণ ভোটারদের সঙ্গে  জাইমার ‘চায়ের আড্ডা’
×

রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস খেলার মাঠে ‘চায়ের আড্ডা’য় জাইমা রহমান সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

তরুণ ভোটারদের সঙ্গে অন্য রকম ‘চায়ের আড্ডা’ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। হাসি, কৌতূহল ও নতুন কিছু শেখার মধ্য দিয়ে পুরো অনুষ্ঠান মেতে থাকে। এ ব্যতিক্রমী আড্ডায় তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা, ভোটাধিকার, সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ ঢাকা নিয়ে তাদের ভাবনা বিনিময় হয়। জাতীয় রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরের সরাসরি সংলাপ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কনটেন্ট জেনারেশন টিম। 

গতকাল রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস খেলার মাঠে ইন্টারেক্টিভ যুব সম্পৃক্ততা অনুষ্ঠান ‘চায়ের আড্ডা’ নামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিটি টেবিলে গিয়ে তরুণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন জাইমা। সেখানে তরুণদের কাছে সামাজিক মাধ্যমের সমস্যা ও সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চান তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ঢাকা তারা কেমন দেখতে চান এবং তাদের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চান তিনি। এ বিষয়ে তরুণরা তাদের মতামত দেন। তাদের মতামতের পরে জাইমা রহমান বলেন, সামাজিক মাধ্যমের ভালো দিক আছে, আবার খারাপ দিকও আছে। 
‘ক্যাম্পাসের বাইরে ঢাকায় খেলাধুলা করার মতো জায়গা নেই এবং পরিবারের সময়টা সেভাবে পাওয়া যায় না’– এসব সমস্যার কথা জাইমা রহমানের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন তরুণরা। এ আলোচনায় যোগ দেন জাইমা। তিনি বলেন, ‘ঢাকায়ও কমিউনিটি সেন্টার, পার্ক হলে সেখানে মানুষ আসবে, মিশবে। এ জায়গা যদি তৈরি করা হয়, সেখানে নিরাপত্তার দিক থেকেও বেনিফিট। তখন হয়তো সবাই ফোনে ব্যস্ত থাকবে না, কিছু করার থাকবে।’

সামাজিক মাধ্যমে নারীর স্বাধীনতার বিষয়ে আরেকজনের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাইমা বলেন, ‘নারীরা যে মতপ্রকাশ করবেন, ওটা করার সাহস থাকে না। স্কুল থেকে যদি শেখানো হয়, ওটা করতে হবে। সেটা যদি বারবার শেখানো হয়, তাহলে সেটা মাথায় ঢুকে থাকে যে– এ জিনিসগুলো করা খারাপ। আর শুধু আইন থাকলে হয় না; সেটা সবাই জানবে ও বুঝবে। আমার জানামতে, মেটা সেভাবে কাজ করে। তাদের আবার আনতে হবে এবং তাদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। এগুলো যদি করা যায়, তাহলে এগুলো কমানো যেতে পারে।’
‘ঢাকায় যানজট, রাস্তাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন তরুণরা। জাইমাও এ বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। বায়ুদূষণমুক্ত ঢাকা দেখতে চান, ঢাকায় গাছ কমে গেছে, খাল-বিল দখল করে বাড়ি নির্মাণ, ট্রাফিক সিগন্যাল, ফুটপাতে গাড়ি চালানো’– তরুণদের এ আলোচনায় অংশ নিয়ে জাইমা রহমান বলেন, এসব ঠিক রাখতে হবে সবার জন্য।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া আরেক টেবিলের তরুণরা শহর ও গ্রামের ছাত্রদের মধ্যে এক ধরনের বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে এটা কমিয়ে আনা জরুরি বলেও মত দেন। তাদের ভাষ্য, দরিদ্ররা তাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারছে না। পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে দুটি ভাগ করে করা হয়েছে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের হেয় করা হয় যে– তারা কিছুই জানে না। স্কুলের ক্লাসরুমের অবস্থা খারাপ বলেও জানান তারা।  

এক তরুণের প্রশ্নের জবাবে জাইমা রহমান বলেন, ‘১৭ বছর পর এসেছি। এর মধ্যে আসিনি। কিন্তু খোঁজ রেখেছি। আসার পর আপনাদের মতো তরুণদের নতুন করে দেখছি। আপনাদের সামনে আনা হয় না। আর বাংলাদেশে সবারই নিজের মত ও আদর্শ প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। এ জিনিসটাকে যেন আমরা হারিয়ে না ফেলি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্যটা হয়তো এক। যেমন আমরা বললাম– সবার যেন কথা বলার অধিকার থাকে। আর একলা কাজ করা সম্ভব না। আমরা সবাই মিলেই কাজ করব।’
অনুষ্ঠানে নারীদের চলাফেরা ও চাকরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে আলোচনা করেন অংশ নেওয়া তরুণরা ও জাইমা রহমান।

আরও পড়ুন

×