ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কোনো সহিংস আচরণ সহ্য করা হবে না: প্রধান উপদেষ্টা 

কোনো সহিংস আচরণ সহ্য করা হবে না: প্রধান উপদেষ্টা 
×

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৩:১৭

নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের সহিংস আচরণ, কেন্দ্র দখল, ভোটে প্রভাব বিস্তার কিংবা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করে।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই– আপনারা দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের দ্ব্যর্থহীনভাবে নির্দেশ দিন, যেন কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কেন্দ্র দখল, ভোটে প্রভাব বিস্তার করা কিংবা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়। কেউ যেন সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনোভাবে গুজব না ছড়ায়। রাষ্ট্র কোনোভাবেই এ ধরনের আচরণ সহ্য করবে না।’

তিনি বলেন, ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়– একটি ত্রুটিপূর্ণ, প্রশ্নবিদ্ধ বা সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচন শেষ পর্যন্ত কারও জন্যই মঙ্গল বয়ে আনে না। দেশের সর্বনাশ ডেকে আনে। যারা জনগণের মতামত উপেক্ষা করে শক্তি ও অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছে, তারা সবাই শেষ পর্যন্ত জনগণের আদালতে কঠিন জবাবদিহির মুখোমুখি হয়েছে।

এবারের নির্বাচন ঘিরে সার্বিক প্রচার-প্রচারণা পূর্ববর্তী যে কোনো নির্বাচনের তুলনায় শান্তিপূর্ণ হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এর মাঝেও আমাদের হৃদয়ে গভীর বেদনার ছায়া রয়েছে। নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর এবং প্রচার-প্রচারণাকালে সংঘটিত কয়েকটি সহিংস ঘটনায় আমরা কিছু মূল্যবান প্রাণ হারিয়েছি। এই সহিংসতা আমাদের জাতীয় বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। গণতন্ত্রের চর্চায় কোনো প্রাণ ঝরে যাওয়া কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্যই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয়। এটি দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছি না। একই সঙ্গে আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি– বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। আমরা কি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে পারব, নাকি আবারও পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃত্তে ফিরে যাব– এ প্রশ্নের উত্তর দেবে গণভোট।

গণভোটে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান 

রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে গণভোটে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে গণভোটে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। অবশ্যই ভোট দিন। নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই নিশ্চিত করুন। আসুন, আমরা সবাই মিলে দায়িত্বশীলতা, সচেতনতা ও শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে সফল করে তুলি।’

জুলাই সনদ কোনো দলের একক ইশতেহার নয়; উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দীর্ঘ ৯ মাস ধরে ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই জাতীয় সনদ প্রস্তুত করেছে। এই আলোচনায় বহু প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে দীর্ঘ মতবিনিময়ের পর রাজনৈতিক দলগুলো এতে স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ জাতির ভবিষ্যৎ পথচলার এক ঐতিহাসিক দলিল– গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই সনদের মাধ্যমে সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, শাসন ব্যবস্থায় জবাবদিহি, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং সমাজে সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ– এসবের সফল বাস্তবায়ন এককভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এ জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামত।

নির্বাচিত সরকার দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করবে
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচন হয়ে গেলে নির্বাচিত সরকার দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব। আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এবং গৌরবের সঙ্গে নবনির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব অর্পণ করে, তাদের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করে বিদায় নিয়ে নিজ নিজ কাজে ফিরে যাব। আমরা এই শুভ মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে নাগরিকদের মনে সন্দেহ, ভয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশ্য একটাই– নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করা, জনগণের আস্থাকে দুর্বল করা।

আরও পড়ুন

×