ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

নাইমুল আবরারের বাবার মামলা, লাশ তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ

নাইমুল আবরারের বাবার মামলা, লাশ তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:২৫ | আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:৪২

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের স্কুল শাখার ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাতের লাশ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার নাইমুলের বাবার দায়ের করা মামলা গ্রহণ করে এ আদেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক। আদালত মোহাম্মদপুর থানার ওসিকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে ১ ডিসেম্বরের মধ্যে মামলা ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

গত শুক্রবার রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ মাঠে কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যায় নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতেই ওই ছাত্রের মৃত্যু হয় বলে সমালোচনা চলছে। ঘটনার রাতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নাইমুলের লাশ নিয়ে যান স্বজনরা। ওই রাতেই মোহাম্মদপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা করেন ওই ছাত্রের বাবা মুজিবুর রহমান। তবে গতকাল তিনি অবহেলায় ছেলের মৃত্যুর অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা করেন।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, নাইমুলের বাবার দায়ের করা মামলায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের নামোল্লেখ ছাড়াও ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। কিশোর আলোর প্রকাশক মতিউর রহমান এবং সম্পাদক কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক।

অভিযোগে বলা হয়, সঠিকভাবে বিদ্যুতের ব্যবস্থাপনা না করে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে এবং তাতে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ছিল না। নাইমুল বিদ্যুতায়িত হওয়ার পর রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ক্যাম্পাসের উল্টো পাশের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে না নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নাইমুলের বাবা মামলার আবেদনে বলেন, কর্তৃপক্ষ তাকে কিছু জানায়নি। বন্ধু ও সহপাঠীর মাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ তিনি জেনেছিলেন। সে দিন আনুমানিক বিকেল ৩টার সময় সে বিদ্যুৎস্পর্শ হলেও ৪টা ১৫ মিনিটে ইউনিভার্সেলে ভর্তি করা হয়। ৪টা ৫১ মিনিটে চিকিৎসক তার ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি অভিযোগ করেছেন, নাইমুলের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে তাকে চাপ দেওয়া হয়। লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়াই মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। তাকে 'ভুল বুঝিয়ে' ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ গ্রহণের জন্য মুচলেকা নেওয়া হয়।

বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ ওমর ফারুক আসিফ বলেন, নাইমুলের মৃত্যু কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বা অপমৃত্যু নয়। বরং আসামিদের চরম অবহেলা, অযত্ন, গাফিলতি, অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসার অবহেলা এবং অসাবধানতার কারণে তার মৃত্যু হয়। 

তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে নাইমুলের লাশ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ওই ঘটনায় দায়ের করা অপমৃত্যু মামলাটির সঙ্গে নতুন নালিশি মামলাটি একসঙ্গে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।

এদিকে নাইমুলের মৃত্যুর জন্য কিশোর আলো কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদ। তিনি বলেন, এ মৃত্যুর দায় অবশ্যই কিশোর আলো কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। দূরের হাসপাতালে তাকে নেওয়ার কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না। অনুষ্ঠানে তার আহত হওয়ার বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। হাসপাতালে নেওয়ার খবরও জানানো হয়নি। সাড়ে ৫টার দিকে আনিসুল হক আমাকে প্রথম কল করেন, ততক্ষণে সব শেষ।

প্রকৃত দোষীদের শাস্তি চেয়ে মানববন্ধন: নাইমুল আবরারের মৃত্যুতে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি চেয়ে মানববন্ধন করেছে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। 'রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ পরিবার' ব্যানারে গতকাল কলেজের সামনে এ মানববন্ধন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবকরাও যোগ দেন।

মানববন্ধনে ওল্ড রেমিয়্যান্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, ঘটনার পরেও কিশোর আলো অনুষ্ঠান চালিয়ে গেছে। এটি খুবই দুঃখজনক। তাদের বাণিজ্যিক একটি অনুষ্ঠানের কাছে একটা তাজা প্রাণের কোনো মূল্য নেই। তিনি বলেন, কিশোর আলোর পক্ষ থেকে বারবার এটিকে নিছক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি শিগগিরই এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চান এবং কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হকের ফাঁসি দাবি করেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে হবে। এ ঘটনায় দায় স্বীকার করে কিশোর আলোর অনুষ্ঠান আয়োজককে লিখিত বক্তব্য দিতে হবে। কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে।

আরও পড়ুন

×