ছাত্রী-গার্মেন্ট কর্মীসহ ধর্ষণের শিকার ৭
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:৫৪
দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশু, স্কুলছাত্রী, গার্মেন্ট কর্মী, প্রতিবন্ধীসহ সাত নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। মাদারীপুর সদর, মৌলভীবাজারের রাজনগর, সাভারের আশুলিয়া, বগুড়ার শেরপুর, কুড়িগ্রামের রৌমারী, টাঙ্গাইলের বাসাইল ও নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এসব ঘটনা ঘটে। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
মাদারীপুর: মাদারীপুর সদর উপজেলার কুমড়াখালী এলাকার পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে ইমামের ধর্ষণের শিকার হয়েছে। অভিযুক্ত মেহেদী হাসান মোল্লাকে (৪০) মঙ্গলবার রাতে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। চরমুগরিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আবুল কালাম জানান, মেহেদী বাগেরহাটের রায়েন্দা থানার রাজাপুর গ্রামের আ. জব্বার মোল্লার ছেলে। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি সওগাতুল আলম জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। বুধবার সকালে ওই ইমামকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের রাজনগরে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বুধবার পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে উপজেলার চরকারপাড় গ্রামের তছদ্দর মিয়ার ছেলে আনছার ও ওয়াসিদ মিয়ার ছেলে মঈনুদ্দিন তাকে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ইউএনও ফেরদৌসী আক্তার রাজনগর থানা পুলিশের মাধ্যমে মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। রাজনগর থানার ওসি আবুল হাশিম জানান, ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষকদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সাভার: চাকরি দেওয়ার কথা বলে আশুলিয়ায় এক পোশাক শ্রমিককে দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বড় রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ আশুলিয়ার বড় রাঙ্গামাটিয়া এলাকার মাইন উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান এবং ধামরাই থানার কামারপাড়া গ্রামের বদর উদ্দিনের ছেলে দেলোয়ার হোসেনকে আটক করেছে। ঘটনায় জড়িত আব্দুর রাজ্জাক, সোহেলসহ কয়েকজনকে খুঁজছে পুলিশ।
আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ বলেন, আটক দু'জনকে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
শেরপুর (বগুড়া): বগুড়ার শেরপুরে বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার উপজেলার ধাওয়াপাড়া গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারী বাদী হয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন। গ্রামবাসী অভিযুক্ত শামিম আহম্মেদকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে। শামীম পাশের ক্ষিকিন্দা গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রৌমারী (কুড়িগ্রাম): রৌমারীতে বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। বুধবার উপজেলার বন্দবেড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত জেনারুল হক (২৪) ওই গ্রামের শমসের আলীর ছেলে। শিশুটির বাবা থানায় অভিযোগ করেছেন। রৌমারী থানার ওসি হাসান ইনাম জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের বাসাইলে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সোমবার রাতে বাসাইল গোবিন্দ স্কুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বাসাইলের একটি মেস থেকে তিনজনকে আটক করেছে। তারা হলো- টাঙ্গাইল সদরের পোড়াবাড়ী গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ (২০), একই উপজেলার খারজানা এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে আমিরুল ইসলাম (২০) ও রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার খারাগাছী এলাকার আক্তার আলীর ছেলে মিলন মিয়া (২২)। তিনজন প্রাণ কোম্পানির মার্কেটিং বিভাগে কাজ করে। বাসাইল থানার ওসি এসএম তুহিন আলী বলেন, গ্রেপ্তার তিনজন পুলিশের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।
নেত্রকোনা: কেন্দুয়ায় মঙ্গলবার রাতে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ অভিযোগে বাদশা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে বুধবার নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাদশা উপজেলার বালুচর গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় কেন্দুয়া থানার এসআই আহাদুল বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
