আলোচনা সভায় বক্তারা
‘আদিবাসী নারীদের টিকে থাকার লড়াই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে’
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ২২:০৬
আদিবাসী নারীদের টিকে থাকার সংগ্রাম এগিয়ে নিতে হলে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন জোরদার করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশনের উদ্যোগে সোমবার স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কুর্নিকোভা চাকমার সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশন ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি চন্দ্রিকা চাকমা।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য লুনা নূর, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বারৈ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের অর্থ সম্পাদক মেইনথিন প্রমীলা এবং বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক ফাল্গুনী ত্রিপুরা।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে মনিরা ত্রিপুরা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আদিবাসী নারীরা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত নানা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি আদিবাসী নারী রাশিমনি হাজং ও কাকন বিবির বীরত্বের কথা স্মরণ করে বলেন, এত অবদানের পরও আদিবাসী নারীরা এখনো নানাভাবে অবহেলার শিকার হচ্ছেন।
সংহতি বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ঢাকা মহানগর সভাপতি কনেজ চাকমা বলেন, বৈষম্যহীন সমাজের কথা বলা হলেও বাস্তবে আদিবাসী নারী ও শিশুরা নানা সহিংসতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
দীপায়ন খীসা বলেন, পৃথিবীতে নারী আন্দোলনের শক্তি এসেছে প্রগতিশীল চিন্তা থেকে। সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব এখনো খুবই কম এবং আদিবাসী নারীরা এখনো নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বারৈ বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ থাকলেও রাষ্ট্র এখনো তাদের যথাযথ নিরাপত্তা ও স্বীকৃতি দিতে পারেনি।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের অর্থ সম্পাদক মেইনথিন প্রমীলা বলেন, আদিবাসী নারীরা কাঠামোগত বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন এবং পাহাড়ে নিখোঁজ নেত্রী কল্পনা চাকমার সন্ধান এখনো মেলেনি।
কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য লুনা নূর বলেন, আদিবাসী নারীরা দ্বৈত বৈষম্যের শিকার। বৈষম্যহীন ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না।
বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক ফাল্গুনী ত্রিপুরা বলেন, দেশে আদিবাসী নারীদের ওপর সহিংসতার বড় কারণ ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সমতল-সব জায়গায় আদিবাসী নারীরা ধর্ষণ, হত্যা ও বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।
আলোচনায় রাশেদা রওনক খান বলেন, দেশে নারী, সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে এখনো আলাদা করে কথা বলতে হচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই দেশে ৭৪ জন নারী সহিংসতার শিকার হয়েছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সভাপতির বক্তব্যে হিল উইমেন্স ফেডারেশন ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি চন্দ্রিকা চাকমা আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান।
