যৌন হয়রানি রোধে বাস্তব প্রতিফলন নেই নীতিমালার
ব্লাস্টের সভায় বক্তারা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৫৩ | আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ | ১১:৫৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীর প্রতি যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আদালতের সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই বলে দাবি করেছেন নারী অধিকার কর্মীরা। তারা বলেছেন, ১৬ বছর আগে উচ্চ আদালত এ ব্যাপারে রায় দিলেও এই দীর্ঘদিনে তা আইনে পরিণত হয়নি। ফলে যৌন হয়রানি দিন দিন বেড়ে চলেছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, কেউ যৌন হয়রানির শিকার হলে কোথায় অভিযোগ দেবেন তাও জানেন না। বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থার কারণে অনেকে লজ্জা কিংবা ভয়ে অভিযোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। এ জন্য বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
গতকাল বুধবার ডেইলি স্টার মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি যৌন হয়রানি প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্ব নারী দিবসকে কেন্দ্র করে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে ব্লাস্টের লিগ্যাল স্পেশালিস্ট আয়শা আক্তার বলেন, পেনাল কোডে শ্লীলতাহানির জন্য দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও সেটার প্রতিফলন দেখা যায় না। আবার অশালীন মন্তব্যের জন্য এক বছর কারাদণ্ড বা আর্থিক দণ্ডের বিধান থাকলেও সেটার বাস্তব প্রয়োগ নেই।
স্বাগত বক্তব্যে ব্লাস্টের পরিচালক বরকত আলী বলেন, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি রোধে ২০০৯ সালের একটি উচ্চ আদালতের রায় রয়েছে। কিন্তু সেটা আইনে পরিণত হয়নি। বিগত সরকার একটি খসড়া করলেও তা সম্পূর্ণ করে যেতে পারেনি।
অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট-১ আসনের এমপি হাসান রাজীব বলেন, ‘আমাদের সদিচ্ছা আছে সমাজের জন্য ভালো কিছু করার। এ বিষয়ে প্রয়োজনে আয়োজকরা আইনমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে দ্রুত আইনটি করার তাগিদ দিতে পারেন। প্রয়োজনে আদালতেও যেতে পারেন।’
ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, আইন প্রণয়নের আগে ১৬ বছর আগে হওয়া হাইকোর্টের রায় অনুসরণ করতে হবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে সব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ কমে যাবে। এ নিয়ে এখন জোরেশোরে আওয়াজ তোলা দরকার।
অনলাইনে যুক্ত হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, দেশে প্রায় দেড়শ বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে যৌন হয়রানিবিষয়ক কমিটি আছে। তাহলে হবে কীভাবে? অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী চান না যৌন নির্যাতনবিষয়ক কমিটিগুলো থাক।
অ্যাডভোকেট তুহিন বলেন, আইন থাকার পরও কি দেশে অপরাধ কমেছে? আইনে সাজা হলেও উচ্চ আদালতে সেই সাজা থাকছে না। তারপরও আইনটা হওয়া দরকার।
অ্যাডভোকটে সাহানা সুলতানা মৌসুমী বলেন, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর অধীন কারখানাগুলোতে নারী নির্যাতনবিষয়ক কমিটিগুলো থাকতে হবে। অভিযোগ বাক্স থাকতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে কেউ অভিযোগ করলে ভয় দেখানো হয় যে, তাঁর চাকরি থাকবে না।
সমাপনী বক্তব্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ফেলো অব প্র্যাকটিস মাহীন সুলতানা বলেন, যৌন নির্যাতন প্রতিরোধের আইনটি আজ হোক, কাল হোক, হবে। কিন্তু বাস্তবায়নটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- বিষয় :
- যৌন হয়রানি
- মতবিনিময় সভা
- নারী অধিকার
