শাহরিয়ার কবিরের মুক্তি দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বৈশ্বিক নাগরিক সমাজের আহ্বান
ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ | ১৮:০০
ইউরোপ ও বৈশ্বিক নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিক, লেখক, মুক্তিযোদ্ধা ও মানবাধিকারকর্মী শাহরিয়ার কবিরের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে। একই সঙ্গে তার জরুরি চিকিৎসা সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো জানায়, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ শাহরিয়ার কবিরের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটেছে এবং তা এখন সংকটাপন্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী এবং একাধিক দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগতে থাকা শাহরিয়ার কবিরকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তার স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি হয়েছে। তার ওজন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে এবং দাঁড়িয়ে থাকাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। বারবার আবেদন সত্ত্বেও তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সংগঠনগুলো আরও জানায়, বর্তমানে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার–এ রয়েছেন। সেখানে স্থানান্তরের পরও তার চিকিৎসা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এ পরিস্থিতিকে ‘অমানবিক’ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। লেমকিন ইন্সটিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন অ্যান্ড হিউম্যান সিকিউরিটি গত ৫ জানুয়ারি শাহরিয়ার কবিরের আটককে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে।
এর আগে জাতিসংঘের ইচ্ছাকৃত আটক সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের অপিনিয়ন নম্বর ৪০/২০২৫–এ তার আটককে ‘ইচ্ছাকৃত, অবৈধ ও দণ্ডমূলক’ বলে অভিহিত করে। একই সঙ্গে তার তাৎক্ষণিক মুক্তি, ক্ষতিপূরণ এবং স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানানো হয়। তবে আগের সরকার এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনগুলো আরও জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাবেক মন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের হেফাজতে মৃত্যুসহ একই সময়ে শতাধিক বন্দীর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তাদের ভাষ্য, শাহরিয়ার কবিরের জীবনের ঝুঁকি এখন স্পষ্ট ও আসন্ন।
যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি তিনটি দাবি জানানো হয়েছে। এগুলো হলো— শাহরিয়ার কবিরসহ সব প্রবীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বন্দীর তাৎক্ষণিক মুক্তি, জরুরি ও যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা, দেশের সব কারাগারে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক মানদণ্ড অনুসরণ করা।
বিবৃতিতে বলা হয়, শাহরিয়ার কবিরের জীবন রক্ষা কেবল ন্যায়বিচারের প্রশ্ন নয়—এটি আমাদের যৌথ মানবতার মাপকাঠিও বটে। তার সুরক্ষা ও মুক্তি বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের চেতনা ও আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করবে।
এই যৌথ আবেদনের নেতৃত্ব দেন ইউরোপীয় সংসদের সাবেক সদস্য ও দক্ষিণ এশিয়া ডেমোক্র্যাটিক ফোরামের নির্বাহী পরিচালক পাউলো কাসাকা। এছাড়া এতে অংশ নেন ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, ক্লাউস স্ট্রেমপেল, তারিক গুনেরসেল এবং এ বি এম নাসির। তাদের সঙ্গে ইউরোপ ও বিশ্বের বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠনও এই আহ্বানে সমর্থন জানিয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
