ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অসহযোগ আন্দোলনের ঝড় দেশজুড়ে

অসহযোগ আন্দোলনের  ঝড় দেশজুড়ে
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চের এই দিনটিতেও বাঙালির অসহযোগ আন্দোলনের ঝড় ওঠে দেশজুড়ে। এদিন দেশের সর্বত্র কালো পতাকার পাশাপাশি অনেক ভবনে স্বাধীন বাংলার পতাকাও উড়তে দেখা যায়। এই পতাকায় মুক্তিকামী বাঙালির স্বাধীনতার দাবি ওঠে জোরেশোরে। ততদিনে প্রত্যন্ত এলাকায়ও সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়েছে। গড়ে উঠেছে বাঙালির প্রতিরোধব্যূহ। পূর্ণ কর্মবিরতি চলে অফিস-আদালতে। সামরিক বাহিনীর নির্দেশ উপেক্ষা করে কর্মবিরতি পালন করেন প্রতিরক্ষা বিভাগের বেসামরিক কর্মচারীরাও।   

এমনি উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই বিকেলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রায় সব জেনারেলকে নিয়ে কঠোর সামরিক প্রহরায় ঢাকা আসেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। বিমানবন্দর থেকে ১৮ পাঞ্জাব ইনফ্যানট্রি ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে ইয়াহিয়া আশ্রয় নেন ঢাকার প্রেসিডেন্ট হাউসে।

ইয়াহিয়ার ঢাকায় অবতরণের এই সময়টিতে বায়তুল মোকাররমে চলছিল স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের বিশাল জনসমাবেশ। নতুন সামরিক বিধি জারির প্রতিবাদে নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে জনসমাবেশে বক্তব্য দেন আ স ম আবদুর রব, আবদুল কুদ্দুস মাখন, শাজাহান সিরাজ প্রমুখ। সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা ঘোষণা দেন, ‘বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। বাঙালির ওপর সামরিক বিধি জারি করার ক্ষমতা কারও নেই।’ 

এদিন রাজধানীর নাখালপাড়ায় বেসামরিক কর্মচারীরা এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চিকিৎসকরা সমাবেশ ও শোভাযাত্রা করেন। বিকেলে কবি সুফিয়া কামালের সভাপতিত্বে তোপখানা রোডে অনুষ্ঠিত হয় নারী সমাবেশ। সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বেতার-টেলিভিশনের শিল্পীরা দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করেন। উদীচী ভ্রাম্যমাণ ট্রাকযোগে গণসংগীত ও পথনাটক পরিবেশন করে নগরীর মোড়ে মোড়ে। 
খুলনার শহীদ হাদিস পার্কের জনসভায় বাংলা জাতীয় লীগপ্রধান আতাউর রহমান খান অবিলম্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাসহ জাতীয় সরকার গঠন করতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি আহ্বান জানান। 
অন্যদিকে আগের দিনের বক্তৃতার পুনরাবৃত্তি করে করাচিতে এদিনও সংবাদ সম্মেলন করেন পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলি ভুট্টো। কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও পিপলস পার্টির সমন্বয়ে কোয়ালিশন সরকার গঠনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দেশ শাসন প্রশ্নে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে অবশ্যই পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ইচ্ছার মূল্য দিতে হবে। 

তবে ভুট্টোর এই বক্তব্যে পূর্ব পাকিস্তানের পাশাপাশি পশ্চিম পাকিস্তানেও তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। প্রতিবাদে পৃথক বিবৃতি দেন পিডিপির নবাবজাদা নসরুল্লাহ, ন্যাপের (ওয়ালী) মাহমুদুল হক উসমানী, কাউন্সিল মুসলিম লীগের খাজা মাহমুদ মান্টু, নবাবজাদা শের আলী খান, কনভেনশন মুসলিম লীগের সৈয়দ আলী আসগর শাহ, জামায়াতের মিয়া তোফায়েল, পাঞ্জাব আওয়ামী লীগের হামিদ সরফরাজ প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×