ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিশেষ লেখা

ঈদ উৎসবের সামাজিক গুরুত্বও অনেক বেশি

ঈদ উৎসবের সামাজিক গুরুত্বও অনেক বেশি
×

সেলিম জাহান

সেলিম জাহান

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ | ০৮:১০ | আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ | ১২:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঘরে-বাইরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের আয়োজন চলছে। প্রতিবছর দুটো ঈদ উৎসব উদযাপন করি আমরা; ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। সাদামাটা কথায় রোজার ঈদ ও কোরবানির ঈদ। তারাবির নামাজ পড়া, সাহ্‌রি খাওয়া, রোজা রাখা, ইফতার করা, জাকাত ও ফিতরা দেওয়া– এসব ঈদুল ফিতরের অত্যাবশ্যকীয় অনুষঙ্গ। 

ঈদ উৎসবে ধনী-দরিদ্র, বড়-ছোট, শত্রু-মিত্র সবাই এক সমান্তরালে চলে আসে। এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে। এতে সমতার আবহ তৈরি হয় সমাজে। তাই ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এ উৎসবের সামাজিক গুরুত্বও অনেক বেশি।  

বাঙালির জন‍্য দুই ঈদই ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও মিলনের। ঈদের নামাজ শেষে সবার সঙ্গে কোলাকুলি এবং শুভেচ্ছা বিনিময় সৌহার্দ‍্যের বড় উদাহরণ। এই ঈদে গ্রামে গিয়ে পরিবার, প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে মিলিত হওয়া সামাজিক মাত্রিকতার একটি অংশ। অন‍্য ধর্মাবলম্বীরাও এ উৎসবে বিচ্ছিন্ন থাকে না। তারা তাদের মুসলিম বন্ধু, প্রতিবেশীর বাড়িতে আমন্ত্রিত হন, যোগ দেন ভোজে। কখনও উপহার নিয়ে আসেন বন্ধুদের জন‍্য। 

ঈদে বেশি মজা করে শিশুরা। তারা বন্ধুদের সঙ্গে পাড়ায় পাড়ায়, বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ায় দলে-বলে; রঙিন পোশাক পরে। বড়দের সালাম করলে ছোটরা পায় ‘ঈদি’ বা সালামি, যা ঈদ সংস্কৃতির একটি উল্লেখযোগ‍্য অংশ। রোজার ঈদের একটি বড় দিক হচ্ছে সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারের সবার জন‍্য নতুন পোশাক কেনা। 
ঈদকে কেন্দ্র করে ঘটে নানা রকম অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, যা জন্ম দিয়েছে ঈদের অর্থনীতির। রোজার অর্থনীতির একটা মাত্রিকতাই হচ্ছে মূল্যস্ফীতি। রোজা শুরু হওয়ার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। বিশেষত যেসব জিনিস রোজার সময়ে বেশি ব্যবহার করা হয় সেগুলোর। যেমন ডাল, ছোলা পেঁয়াজ, তেল ইত্যাদি। এসব পণ্যের সরবরাহে সংকট থাক বা না থাক, রোজার মাসে মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা মানসিক এবং ঐতিহ্যগত। রোজার মাসে গৃহস্থালির ব্যয়ও বেড়ে যায়। রোজার সময়ে প্রতিটি পরিবারই  সাহ্‌রি ও ইফতারের সময়ে ভালো খেতে চায় এবং অন্যদেরও আপ্যায়ন করতে চায়। ফলে রোজার মাসে পরিবারের খাবার খরচ বৃদ্ধি পায়। 

রোজার ঈদের অন্যতম আকর্ষণ কেনাকাটা। এ সময়ে বিপণিবিতানের আয় ও মুনাফা বেড়ে যায়। বাংলাদেশে গত রোজার ঈদ উপলক্ষে প্রায় ২ লাখ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়েছে। এ সময় বাজারের বর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিপণিবিতানে নতুন লোক নিয়োগ করতে হয়। এ প্রক্রিয়ায় ঈদের সময়ে অস্থায়ী কর্ম নিয়োজন বেড়ে যায়। 
ঈদের সময়ে এক কোটি থেকে দেড় কোটি মানুষ শহর থেকে গ্রামে ছুটি কাটাতে যায়। এই বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে যাত্রীদের টিকিট ক্রয়, বর্ধিত পরিবহন ব্যবস্থা, আয় ও মুনাফা। এটা অর্থনীতিকে বেগবান করে। 

তবে শেষ কথা হলো, ঈদ অর্থনীতির একটি সুস্পষ্ট মাত্রিকতা হচ্ছে অসমতা ও বৈষম্য। রোজার ঈদের সময়ে মূল্যস্ফীতির প্রধান শিকার হন দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ। সাহ্‌রি এবং ইফতারের সময়ে তাদের আহারও থাকে ন্যূনতম এবং বৈচিত্র্যহীন। ঈদের সময়ে কাপড় থেকে অন্যান্য কেনাকাটার সময়েও বিশাল বৈষম্য ও অসমতা চোখে পড়ে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে। ফলে বাজার ব্যবস্থার কারণে সাম্যের চেষ্টা অনেক ক্ষেত্রে ফিকে হয়ে যায়। 

 

আরও পড়ুন

×