ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে কোনো চিঠি দেয়নি সরকার: শামা ওবায়েদ

শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে কোনো চিঠি দেয়নি সরকার: শামা ওবায়েদ
×

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬ | ১৯:৫৮

গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লিকে কোনো চিঠি দেয়নি নবগঠিত বিএনপি সরকার। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্যান্যদের ফেরত আনার বিষয়ে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।

শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনার বিষয়ে বর্তমান সরকার দিল্লিকে কোনো চিঠি দিয়েছে কিনা– উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের এক মাস হয়েছে। এই এক মাসের মধ্যে ভারতে হাইকমিশনের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকগুলোতে এ কথা বলা হয়েছে। সুতরাং আমরা গত ১৭ বছরের শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আছে বা তার সাজা হয়েছে, আরও যারা ভারতে পালিয়ে আছে, তাদের ব্যাপারে আমরা কথা বলেছি।’

আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি গিয়েছে কি? উত্তরে তিনি বলেন, ‘না, আমরা তো কথাই বলেছি ডিরেক্টলি (সরাসরি)। এখন এইটা তো অলরেডি (ইতোমধ্যে) চলমান প্রক্রিয়া।’

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে দুই দফায় ভারতে চিঠি দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু তাতে সাড়া দেয়নি ভারত। ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর ভারত বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েছিল। আর গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দুই–তৃতীয়াংশ আসন জয়ের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি।

হাদি হত্যার অভিযুক্তদের কনসুল্যার একসেস পায়নি ঢাকা
শরীফ ওসমান হাদি হত্যার অভিযুক্তদের ফেরত আনার অগ্রগতি জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এর কাজ বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চলমান রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দিলে আমরা ভারতের সঙ্গে কথা বলব। আমাদের মিশন কনসুল্যার একসেস নিয়েও কাজ করছে। আশা করছি কনসুল্যার একসেস শিগগিরি পাব। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে প্রক্রিয়া ও যোগাযোগ চলমান রয়েছে।’

কনসুল্যার একসেসে এত সময় লাগছে কেনো? উত্তরে তিনি বলেন, ‘সেটা আমরা পুশ (চাপ দিচ্ছি) করছি তাদেরকে (ভারতকে), আর সেটা ভারত বলতে পারবে ভালো, কেন এতদিন সময় লাগছে। কিন্তু আমরা তাদেরকে পুশ করছি, কারণ যেহেতু বাংলাদেশে বাংলাদেশের নাগরিক হত্যা হয়েছে এবং যদি হত্যাকারী ভারতে থেকে থাকে, ভারতে গ্রেপ্তার হয়ে থাকে, এই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা দেওয়াটা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, এই হাদি হত্যার ব্যাপারে এবং বিচার আমরা নিশ্চিত করব।’

বন্দি নির্মাণ চুক্তির আওতায় ফেরত আনা নিয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেব। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কাজটা চলছে।’

ভারত থেকে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি জ্বালানি মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। আমরা যতদূর জানি একটা সবুজ সংকেত আমরা পেয়েছি।’

ইরানে ২ হাজার বাংলাদেশি নিরাপদে রয়েছেন
মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও ফেরত আসতে চাওয়া নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ চায় দ্রুত সময়ের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ হোক। সেই সঙ্গে যে অরাজকতা, অস্থিরতা এবং সংকট বিরাজ করছে সারা পৃথিবীতে, সেটা কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান হোক। আমরা বিষয়টি আশা করছি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যে আমাদের বাংলাদেশিরা ওখানে রয়ে গেছে বিভিন্ন জায়গায়, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, তাদের অবস্থান, তারা কোথায় আছে, নিরাপদ আছে নাকি বা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা যাতে তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরকে নিরাপদ জায়গায় নিতে পারি, সে কাজটা আমরা করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যদি কেউ যোগাযোগ করে বা করেছে বা কেউ যদি বাংলাদেশের ফেরত আসার বিষয়ে আগ্রহ দেখায়, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। যার ধারাবাহিকতায় ঈদের আগের রাতেই ১৮৬ জনকে তেহরান থেকে ফেরত আনতে পেরেছি। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যেসব বাংলাদেশিরা অনিরাপদ বোধ করছে, যারা আসতে চাচ্ছে, তারা যাতে ঠিকমত নিরাপত্তার সঙ্গে আসতে পারে সে বিষয়ে কাজ চলছে।’

ইরানে বাংলাদেশিদের বর্তমান সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইরানে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশি আছে। তার মধ্যে বেশ কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছেন। আজকে পর্যন্ত তারা নিরাপদে আছেন। তেহরানে বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগে রয়েছে। তাদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি হলে ফিরিয়ে আনা হবে।’

আরও পড়ুন

×