ঈদে আনন্দ টেরই পাননি সিএনজিচালক আকিত
আকিত সরদার
হকিকত জাহান হকি
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬ | ০৮:২২ | আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ | ১১:৫২
| প্রিন্ট সংস্করণ
এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে ঈদুল ফিতর। ঘরে ঘরে আনন্দের ঢেউ বয়ে যায়। কিন্তু কারও কারও জীবনে ঈদও পারে না খুশি আনতে। এমনই একজন রাজধানীর সিএনজিচালক আকিত সরদার। অটোরিকশার অবাধ চলাচলের কারণে তাঁর আয় কমে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। নিজের থাকা-খাওয়া, সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। এবারের ঈদের আনন্দ কখন এসেছে, কখন চলে গেছে, তা তিনি টেরই পাননি। শুধুই সেমাই, চিনি কেনার জন্য গোপালগঞ্জে নিজ বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন মাত্র এক হাজার টাকা। হাতে টাকা না থাকায় কোনো কোনো দিন তিনি শুধুই এক গ্লাস পানি খেয়ে রোজা রেখেছেন।
ঈদুল ফিতরের এক দিন আগে ১৯ মার্চ জাতীয় সংসদ ভবনের পূর্ব পাশের খেজুর বাগান সংলগ্ন সড়কে কথা হচ্ছিল আকিত সরদারের সঙ্গে। তিনি জানান, আয়-রোজগার নেই বললেই চলে, সংসার চলছে না। ছেলে-মেয়ে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সিএনজি মালিককে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ টাকা জমা দিতে হয়। কোনো রকম চলতে হলেও প্রতিদিন রোজগার করতে হয় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। অথচ এক দিনে এর অর্ধেকও আয় সম্ভব হচ্ছে না। জমার টাকা পরিশোধ করে দুই-তিনশ টাকা হাতে নিয়ে বাসায় ফিরতে হচ্ছে। আমরা মহাবিপদের মধ্যেই আছি।
তিনি জানান, শুধু ঢাকা মেট্রো-থ নম্বরের সিএনজিগুলো বাণিজ্যিকভাবে চালানোর জন্য সরকারিভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে অন্য নম্বরের সিএনজিগুলোকে শুধু ব্যক্তির ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবু সেগুলো চালানো হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে।
অভাব-অনটন
আকিত সরদার বলেন, ‘আমার প্রতিদিনের যে আয়-রোজগার, তাতে নিজে তিন বেলা পেটভরে খেতে পাচ্ছি না। আমি শুধু খেটেই যাচ্ছি।’ ১৯ মার্চ এক সাহেব ১০০ টাকা ভাড়া বলে গন্তব্যে যান। তিনি খুশি হয়ে একশ টাকার সঙ্গে আরও দুইশ টাকা দেন। সাহেব বাড়তি টাকা দিয়ে তাঁকে ইফতারির পর বিরিয়ানি খেতে বলেছিলেন। পরে তিনি খেজুর বাগানের পাশের সড়ক সংলগ্ন শাহী নান্না বিরিয়ানি হাউজে বসে পেটপুরে মোরগ-পোলাও খেয়েছেন।
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, ‘সিএনজি চালানোর সময় রাস্তার ধারে বিরিয়ানির দোকান দেখলে এক প্লেট বিরিয়ানি কিনে খেতে ইচ্ছে করে। সেই সাধ্য আমার নেই।’
ঈদের কেনাকাটা
ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের জন্য জামাকাপড় কিনতে পারেননি। হাতে টাকা না থাকায় ঈদ উপলক্ষে তিনি বাড়ি যাবেন না। গত দেড় মাস ধরে তিনি টানা গাড়ি চালাচ্ছেন। বিশ্রাম নেই। অবাধে অটোরিকশা চালানোর সুযোগ দেওয়ায় সিএনজিচালকদের যাত্রী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। রাজধানীর ভিআইপি সড়কগুলোতেও অটোরিকশার অবাধ চলাচল। এ কারণে যাত্রী সংকট, আর্থিক দুরবস্থা প্রকট হয়েছে।
- বিষয় :
- ঈদ উৎসব
