সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক
পাচারের অর্থ ফেরাতে এপ্রিলের মধ্যে চুক্তি
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ২২:৫৭
ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎ করে পাচার করা অর্থ ফেরতে চলতি এপ্রিলের মধ্যে বিদেশি আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অপ্রকাশযোগ্য (এনডিএ) চুক্তি করতে হবে দুর্বল পাঁচ ব্যাংক মিলে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে।
বৃহষ্পতিবার ব্যাংকগুলোতে নিয়োগ দেওয়া প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করে এ নির্দেশনা দিয়েছেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে সোস্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক পরিচালিত হতো এস আলম গ্রুপের কর্তৃত্বে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ নামে-বেনামে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার বিষয়টি চিহ্নিত হয়েছে। এক্সিম ব্যাংক পরিচালিত হতো নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদারের কর্তৃত্বে। এই গ্রুপের ঋণ রয়েছে ৯ হাজার ২১৪ কোটি টাকা।
এই দুই গ্রুপসহ ছয়টি গ্রুপের পাচারের অর্থ ফেরত আনতে এখন পর্যন্ত বিদেশি বহুজাতিক আইনি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৩৬টি এনডিএ করেছে ১০ ব্যাংক। এখন আরও ২৩টি চুক্তি করার প্রক্রিয়া রয়েছে।
বৈঠকে প্রশাসকদের গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলো থেকে ঋণের নামে আত্মসাৎ করে পাচার করা অর্থ ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে হবে। একইসঙ্গে দেশের সম্পদ উদ্ধার করে এসব ব্যাংক সচল করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ঋণ রয়েছে এক লাখ ৯৬ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা বা ৮৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। পাচ ব্যাংকের মধ্যে খেলাপির হারে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা এক্সিমের ৫৩ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৬২ দশমিক ৪৫ শতাংশ খেলাপি। বাকি চার ব্যাংকের মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংকের ২৮ হাজার ১৭ কোটির মধ্যে ৯৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।
এ ছাড়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামীর ৬২ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা ঋণের ৯৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ, গ্লোবাল ইমসলামী ৯৬ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং সোস্যাল ইসলামী ৩৮ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ৩৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ খেলাপি।
- বিষয় :
- অর্থ পাচার
- সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক
