মহিলা পরিষদের ৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
লিঙ্গীয় বৈষম্য দূরীকরণে ঐক্যের আহ্বান
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৪:০২
বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। গতকাল শনিবার বেলা আড়াইটায় সংগঠনের উদ্যোগে সমাবেশ, র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
‘লিঙ্গীয় বৈষম্য দূর করি, সমতাপূর্ণ সমাজ গড়ি’–এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সুফিয়া কামাল ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। উদ্বোধনের পর সেখান থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালি শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ঘোষণা পাঠ করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম। আলোচনায় অংশ নেন সহসভাপতি ডা. মাখদুমা নার্গিস রত্না, সেলিম রায়হান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাহবুব আজীজ, ওয়াইডব্লিউসিএ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হেলেন মনীষা সরকার, তরুণ সংগঠক সৈয়দা সুরঞ্জনা ও গবেষণা সহকারী মাহামুদ খালিদ।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দীর্ঘ পথচলায় নারীদের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি নারীবিদ্বেষী ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। ধর্মকে নারীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করার প্রবণতারও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘পিতৃতান্ত্রিক সমাজ কাঠামো ভেঙে সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলাই নারী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। এ লড়াইয়ে থেমে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
শুভেচ্ছা বক্তব্যে মালেকা বানু সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুফিয়া কামালসহ সব প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ৫৬ বছরের এ যাত্রায় সংগঠন নারী আন্দোলনের ভিতকে শক্ত করেছে এবং সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নতুন প্রজন্মকে অধিকার আদায়ে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সত্ত্বেও নারীর অধিকার ও সমতার ক্ষেত্রে এখনও ঘাটতি রয়ে গেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব নারীর ওপর কেমন পড়ছে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
সাংবাদিক মাহবুব আজীজ বলেন, সম্পদে সমঅধিকার ও রাজনীতিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না হলে প্রকৃত ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। অসাম্প্রদায়িক ও সমান মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
হেলেন মনীষা সরকার বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে একসঙ্গে যুক্ত করতে পারা সংগঠনের বড় অর্জন। বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তরুণ সংগঠক সৈয়দা সুরঞ্জনা বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ উদযাপন কেবল সংখ্যাগত নয়। এটি নারী আন্দোলনের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিফলন। অন্যদিকে মাহামুদ খালিদ নারী আন্দোলন নিয়ে বিদ্যমান ভুল ধারণা দূর করতে শিক্ষা কারিকুলামে এ বিষয়ে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানান।
আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সমবেত কণ্ঠে সংগীত পরিবেশন করেন গীতপ্রিয় সংগঠনের শিল্পীরা। আবৃত্তি পরিবেশন করে স্বরব্যঞ্জন এবং নৃত্য পরিবেশন করেন জাইমা, শ্রীময়ী, সুনেহা ও আরাহী। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন রোমান। অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পাড়া কমিটির সদস্য, বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধি, নারী ক্রীড়াবিদসহ পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক খুরশীদা ইমাম ও সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ফজিলা খাতুন লতা।
- বিষয় :
- মহিলা পরিষদ
