ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো নিয়ে নির্দেশনা চায় অর্থ মন্ত্রণালয়

সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক আজ

প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো নিয়ে নির্দেশনা চায় অর্থ মন্ত্রণালয়
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩৪ | আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেল বা বেতন কাঠামোর  সুপারিশ বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকারে উচ্চ পর্যায়ের দিকনির্দেশনা চায় অর্থ মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে আজ রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করে। 

গত ২২ জানুয়ারি জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। এতে সর্বনিম্ন ধাপে বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।

কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় জানান, সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তা বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি প্রক্রিয়া রয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে নতুন সরকারের দিকনির্দেশনা ছাড়া পর্যালোচনা কমিটি এখনও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।

অর্থ বিভাগ সূত্র আরও জানায়, প্রাথমিকভাবে সরকারের পরিকল্পনা ছিল চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকেই আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা। এ লক্ষ্যে সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাড়তি ব্যয়ের কারণে ওই বরাদ্দ অন্য খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে। তবে সেটিও একযোগে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রথম ধাপে মূল বেতন বা বেসিক কার্যকর করা হতে পারে এবং পরবর্তী ধাপে অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা যুক্ত করা হবে। অতীতের বেতন কমিশনগুলোর ক্ষেত্রেও এ ধরনের ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের নজির রয়েছে।

এদিকে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও এ সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়ছে। ফলে সরকার বর্তমানে ব্যয় সাশ্রয়ের নীতি অনুসরণ করছে। এ বাস্তবতায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, সে বিষয়ও আজকের বৈঠকে আলোচনায় আসবে।

সম্প্রতি নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের ওপর সুপারিশ নিয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান সরকারের উচিত হবে নিজের মতো করে নতুন পে কমিশন গঠন করা। এ ক্ষেত্রে আগের বেতন কমিশনের প্রতিবেদন একটি উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রশ্নহীনভাবে প্রস্তাবিত বেতন বিবেচনা করার সুযোগ নেই। 

জাতীয় বেতন কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আলী খান (এনডিসি) সমকালকে বলেন, কমিশন তাদের কাজ সম্পন্ন করে সার্বিক বিবেচনায় সুপারিশ জমা দিয়েছে। এখন বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের। তিনি জানান, অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে কোনো বেতন কমিশনের সুপারিশই শতভাগ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বর্তমান কমিশনের সুপারিশও সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হবে কিনা– নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

আরও পড়ুন

×