ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভি
সমন্বিত উদ্যোগে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ সম্ভব
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:৫৬ | আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ২১:০৮
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং গ্যাভির সহায়তায় বাস্তবায়িত এই কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১২ লাখের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্যাভির যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, জরুরি এই কর্মসূচিতে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা এবং গুরুতর জটিলতার ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা ও কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশুকে টিকার আওতায় আনতে জোর প্রচেষ্টা চালানো হবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত টিকাদান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। এতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ বৃদ্ধি এবং শিশু স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তারা মনে করেন, এই কর্মসূচি নিয়মিত টিকাদানের সম্পূরক হিসেবে কাজ করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রোগপ্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদারে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, শিশুদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে টিকা একটি মৌলিক উপাদান। বর্তমানে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধিতে হাজার হাজার শিশু, বিশেষ করে ‘জিরো-ডোজ’ ও আংশিক টিকাপ্রাপ্ত শিশুরা গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে। নয় মাসের কম বয়সী শিশুরাও সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি পূরণে ইউনিসেফ সরকার ও অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি আহমেদ জামশিদ মোহামেদ বলেন, সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ায় সরকার প্রশংসার দাবিদার। এই কর্মসূচি আরও শিশুমৃত্যু ঠেকাতে এবং দীর্ঘদিনের ইমিউনিটি গ্যাপ দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। হাম-রুবেলার টিকা নিরাপদ ও কার্যকরএটাই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়।
এদিকে গ্যাভির সিনিয়র কান্ট্রি ম্যানেজার ডির্ক গেহল বলেন, এই প্রাদুর্ভাব আমাদের মনে করিয়ে দেয় টিকায় সামান্য ঘাটতিও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতোমধ্যে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীর চাপ বেড়েছে এবং আইসোলেশন ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজারের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বেশি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি শক্তিশালী করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য সরকার, উন্নয়ন সহযোগী এবং জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
