ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

এআই সহকারী নিয়ে ইইউর সঙ্গে বিরোধে গুগল-অ্যাপল

এআই সহকারী নিয়ে ইইউর সঙ্গে বিরোধে গুগল-অ্যাপল
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১৭:৪৪

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সহকারীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে নতুন বিরোধে জড়িয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল ও অ্যাপল। অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে প্রতিদ্বন্দ্বী এআই সহকারীদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। তবে এতে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে দাবি করেছে দুই প্রতিষ্ঠান।

ইউরোপীয় কমিশনের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে গুগলকে অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মে তৃতীয় পক্ষের এআই সহকারীদের আরও বিস্তৃত সুবিধা দিতে হবে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে গুগলকে সার্চ-সংক্রান্ত কিছু তথ্য অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন ও এআই সেবাদাতাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে। এ নির্দেশনা ইইউর ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (ডিএমএ) এর অংশ।

কমিশনের মতে, এর ফলে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা গুগলের জেমিনির পাশাপাশি অন্য এআই সহকারীকেও ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবেন এবং বিভিন্ন অ্যাপ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে পারবেন। এতে এআই খাতে প্রতিযোগিতা বাড়বে।

তবে গুগল বলেছে, এ ধরনের প্রবেশাধিকার দিলে বাইরের অ্যাপগুলো ডিভাইসের সংবেদনশীল অনুমতি পেয়ে যেতে পারে, যা নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে। প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক বিষয়ক প্রধান কেন্ট ওয়াকার বলেন, সার্চ ডেটা ভাগাভাগি করলে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা, ব্যবসায়িক গোপন তথ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

অ্যান্ড্রয়েড প্রধান সামীর সামাতও ইউরোপীয় কমিশনের অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছেন, ব্যবহারকারীরা চাইলে ইতোমধ্যে ডিফল্ট এআই সহকারী পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছেন।

একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছে অ্যাপলও। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে যেকোনো ভার্চ্যুয়াল সহকারীকে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের সরাসরি প্রবেশাধিকার দিতে হবে। এ কারণেই জুনে ঘোষিত নতুন সিরি এআই সেবা ইউরোপীয় ইউনিয়নে আইফোন ও আইপ্যাডে চালু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাপল।

তবে ইউরোপীয় কমিশন বলছে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সুরক্ষা বজায় রেখেই নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন করতে পারবে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও সুবিধা পেতে পারে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় ৩০ শতাংশ স্মার্টফোনে চ্যাটজিপিটি ইনস্টল রয়েছে। ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীরা যদি সরাসরি চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড ও সার্চ ইকোসিস্টেমের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই সহকারীদের ফোনের বার্তা, অবস্থান, মাইক্রোফোন বা স্ক্রিনে প্রবেশাধিকার দিলে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

সূত্র: সিএনএন

আরও পড়ুন

×