ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপ্রাপ্ত বয়সে না বুঝে প্রশ্ন করার ঝুঁকি

অপ্রাপ্ত বয়সে না বুঝে প্রশ্ন  করার ঝুঁকি
×

­ আইসিটি ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

সন্তানরা এখন কারণে-অকারণে এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। অভিভাবকের কজন সেই খোঁজ রাখতে পারছেন! সন্তানরা ঠিক কী কাজে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে, তাও অজানা।
নিজের বয়স অনুযায়ী, এমন কিছু সে এআই চ্যাটবটকে জিজ্ঞেস করছে না তো, যা নিষিদ্ধ?
সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। বাড়াতে হবে নজরদারি। কারণ, এরই মধ্যে চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে নেতিবাচক কাজে প্ররোচিত করার। ঘটনা এখানেই শেষ নয়; কীভাবে সুইসাইড নোট লিখতে হবে, জটিল মনস্তাত্ত্বিক এ বিষয়ে সহায়তা করছে চ্যাটজিপিটি, এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে। আদালতে এসব নিয়ে মামলাও হয়েছে। তাই সোশ্যাল মিডিয়া ও এআই প্ল্যাটফর্মে কম বয়সীরা কী করছে, এ বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এমনটি না হলে বিপদ আসবেই। বয়সের ক্রমানুসারে যেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে প্রশ্ন করে, সেটি নিশ্চিত করতে চাইছে চ্যাটজিপিটির মূল সংস্থা ওপেনএআই। অচিরে বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশনা আনতে কাজ করছে সংস্থাটি। বয়সভিত্তিক আচরণবিধি যেন মেনে চলা হয়, সেটাই নিশ্চিত করে চাইছে এই সংস্থা। সেখানে যা মনে আসছে, তা-ই প্রশ্ন করছে তারা। তীব্র আসক্তি তৈরি হচ্ছে এতে। কিছুদিন আগে কিশোর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ওই কিশোর চ্যাটজিপিটির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছে আত্মহত্যার পদ্ধতি নিয়ে। সুইসাইড নোট কীভাবে লিখতে হয়, সেটি নিয়ে আলোচনা করেছে। ওপেনএআই মেনে নিয়েছে, এ ঘটনার সত্যতা। সংস্থাটি বলছে, এআই চ্যাটবটে কিছু সমস্যা থাকার জন্যই এমনটি ঘটেছে। ফল হয়েছে মারাত্মক। এই ভয়ংকর ঘটনা সামনে আসার পরই বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা জানায় ওপেনএআই। এর মধ্যে অন্যতম হলো পেরেন্টাল কন্ট্রোল।সন্তানদের চ্যাটবট প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে নিজেদের ইমেইল আইডি যুক্ত রাখতে পারবেন অভিভাবকরা। চাইলেই তারা দেখে নিতে পারবেন, সন্তান চ্যাটজিপিটিতে ঠিক কোন বিষয়ে আলোচনা করছে। এ ছাড়া চ্যাট হিস্ট্রি চাইলেই মুছে ফেলা যাবে। এতে এআইর মেমোরি বলে কিছু থাকবে না। তাই বন্ধ হবে অনেক নেতিবাচক আলোচনা– এমনই আশা। এরপরও প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। আদতে কি ছোটদের ওপরে সব সময়ে নজরদারি করা সম্ভব? কারণ, এআই এখন অপ্রতিরোধ্য। তার বিচরণ ভয়াবহ। 
শুধু তাই নয়; অপ্রাপ্তবয়স্করা যে শুধু প্রয়োজনে প্রশ্ন করে, তা কিন্তু নয়। অনেক বিষয়ে তাদের কৌতূহল। সারাবিশ্বের তাবৎ বিষয় তাদের ভাবায়; করে প্রশ্নমুখর। ফলে তারা যে বুঝে প্রশ্ন করবে, তা নয়। তাদের সব প্রশ্নই যে নতুন মডেলে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, তাও সম্ভব নয়। একে ঠিক কতটুকু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়।

আরও পড়ুন

×