ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সংকটে দেশ, জাতীয় ঐক্য জরুরি: বদিউল আলম

সংকটে দেশ, জাতীয় ঐক্য জরুরি: বদিউল আলম
×

বৈঠকে বক্তব্য দেন ড. বদিউল আলম মজুমদার। ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ২২:১০

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, দেশে ভয়াবহ সংকট বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য জরুরি।

আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটছে, সেটিও দেশকে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এটি আমাদের সৃষ্টি নয়। কিন্তু এর ভোগান্তি আমাদের সহ্য করতে হবে। আমাদেরই মোকাবিলা করতে হবে, উত্তরণ ঘটাতে হবে।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘অধ্যাদেশ বাতিল এবং গণভোট অস্বীকারের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যুগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বদিউল আলম মজুমদার এসব কথা বলেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি এই আলোচনার আয়োজন করে। 
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘একদিকে বহির্বিশ্বের সংকট আমাদের ওপর প্রভাব ফেলছে, অন্যদিকে আমরা নিজেরাই নতুন সংকট তৈরি করছি। যেমন–গণভোটের রায় নস্যাৎ করা কিংবা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকারী অধ্যাদেশগুলো বাতিল করার চেষ্টা। দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এই সমস্যা বাইরে থেকে সৃষ্টি হলেও আমরা নিজেরাই কিছু অপ্রয়োজনীয় সমস্যা তৈরি করছি।’

গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে গণভোট হয়েছে এবং জনগণ যে অনুমোদন দিয়েছে, সেটি শেষ কথা হওয়ার কথা ছিল। অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছিল। এটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু সরকার বিভিন্ন অজুহাত দিচ্ছে। 

তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হয়েছিলেন। তিনি আবার ফেরতও গেলেন। এগুলোও কী সংবিধানে ছিল? তখনও কয়েকটি দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এটি হয়েছিল। জাতীয় পার্টি সেই ঐকমত্যের মধ্যে ছিল না। তবু তিন জোটের রূপরেখার ভিত্তিতে বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়। সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত ছিল না, কিন্তু জনগণের কল্যাণে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছিল।

জুলাই সনদে বিএনপিসহ কয়েকটি দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রসঙ্গে সুজন সম্পাদক বলেন, নোট অব ডিসেন্ট মানে ‘মাইনরিটি ভিউ’ বা সংখ্যালঘু মতামত। ১৪ জনের সংসদীয় কমিটিতে ১১ জন সরকারদলীয় ও তিনজন বিরোধীদলীয় সদস্য থাকলে সিদ্ধান্ত তো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই হবে। ঐকমত্য কমিশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতটাই সিদ্ধান্ত এবং সেটিই গণভোটে অনুমোদিত হয়েছে। এখন সংবিধানের অজুহাত তুলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের ওপর প্রশ্ন তোলা যুক্তিসংগত নয়। এসব পদক্ষেপ আমাদের সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে।

তিনি বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে যে ঐক্যের মাধ্যমে আমরা স্বৈরাচারী ব্যবস্থা পতন ঘটিয়েছিলাম এবং নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই ঐক্য আজ ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। 

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এই সময়ে আমাদের বড় প্রয়োজন ঐক্য। না হলে আমরা আবারও সংকটের দিকে যাব। এর ভয়াবহ পরিণতি জনগণসহ ক্ষমতাসীনদেরও ভোগ করতে হবে।

ফরিদুল হকের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, রাজনীতি বিশ্লেষক আবু হেনা রাজ্জাকী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক কমিটির সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, মনিরা শারমিন প্রমুখ। 

আরও পড়ুন

×