ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আরও ডিজেল ও টিকা কেনার অনুমোদন

আরও ডিজেল ও টিকা কেনার অনুমোদন
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ ঘিরে সৃষ্ট অস্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আরও তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জরুরি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিনটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য কমিটিতে উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবগুলোতে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে, অর্থাৎ দরপত্র ছাড়া ডিজেল আমদানির কথা বলা হয়। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইয়ার এনার্জির কাছ থেকে এক লাখ টন ডিজেল আমদানি করা হবে। এ ছাড়া কে অ্যান্ড আর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানির কাছ থেকে এক লাখ টন এবং সিকদার ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে আরও এক লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে জরুরি চাহিদা মোকাবিলায় আরও কয়েক লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহ ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যাতে দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়। 

৩৩ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই সেতু
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে বরিশাল-ভোলা এবং চাঁদপুর-শরীয়তপুর সংযোগে দুটি বড় সেতু নির্মাণের প্রস্তাবে বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মোট ৩৩ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ দুই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। বরিশাল-ভোলা সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ১০ দশমিক ৮৬ কিলোমিটার, যা যমুনা সেতুর দ্বিগুণেরও বেশি। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে, চাঁদপুর-শরীয়তপুর সড়কে মেঘনা নদীর ওপর প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা।

কেনা হচ্ছে ৪২১ কোটি টাকার টিকা
নারী ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান রাখতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ইউনিসেফ থেকে ৪২১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার টিকা কেনা হচ্ছে। কমিটি টিকা কিনতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। 
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ইউনিসেফের মাধ্যমে ৫০ শতাংশ ভ্যাকসিন সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ ভ্যাকসিন উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও খোলা বাজারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভ্যাকসিন পাওয়া যায় না এবং ভ্যাকসিনের গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব হয় না। এ পরিস্থিতিতে নারী ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে মাঠ পর্যায়ে ইপিআই কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কার্যক্রমে ব্যবহৃত অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ ভ্যাকসিন (ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং কৃমিনাশক ট্যাবলেট) উন্মুক্ত দরপত্রের পরিবর্তে গতকালের বৈঠকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ইউনিসেফের মাধ্যমে ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। 

আরও পড়ুন

×