ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ভোটারতালিকা থেকে মৃতদের বাদ

ইমাম ও পুরোহিতদের সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা ইসির

থাকবেন চৌকিদার, পরিবার পরিকল্পনাকর্মী ও কবরস্থান পরিচালনাকারীরা

ইমাম ও পুরোহিতদের সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা ইসির
×

অমরেশ রায়

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪:১৬

ভোটার তালিকার শুদ্ধতা ও সঠিকতা বজায় রাখতে তালিকা থেকে মৃত ভোটারদের স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে ইমাম ও পুরোহিতদের সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। এছাড়া চৌকিদার, পরিবার পরিকল্পনা কর্মী এবং কবরস্থান পরিচালনাকারীদের সহযোগিতাও নেওয়া হবে। আর তাদের তথ্য সংগ্রহকারী হিসেব যুক্ত করে উপযুক্ত সম্মানী প্রদানের চিন্তা-ভাবনাও রয়েছে ইসির।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটার বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল। এখন কীভাবে ও কোন প্রক্রিয়ায় এটি বাস্তবায়ন করা হবে- তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে ইসিতেও আলোচনা করা হয়েছে। দ্রুতই চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করে কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। এরপর কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসি সূত্র বলছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদকালে অনেক স্বজনই মৃত ভোটারের তথ্য দিতে আগ্রহী হন না বলে মাঠ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এই ভয় কাজ করে যে, ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা গেলে তাদের এনআইডি ফেরত নেওয়া হবে। পরে কোনো কারণে মৃত ব্যক্তির এনআইডি প্রয়োজন হলে তা আর তারা ব্যবহার করতে পারবেন না। এই ভয় দূর করার জন্যে ইসি এখন এনআইডি ফেরত নেওয়ার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এক বছরে মোট তিনবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করেছে ইসি। এতে প্রায় ৬০ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন এবং প্রায় সাড়ে ২১ লাখ মৃত ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে এরপরও অনেক মৃত ভোটারের নাম তালিকায় রয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই কারণেই নির্বাচন শেষে মৃত ভোটারদের তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইসি।

গত বছরের ৬ অক্টোবর মৃত ভোটার বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাদের কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার আগে ভোটার তালিকায় থাকা মৃত ভোটারদের নামে ভোট দেওয়া হতো বলে নানা অভিযোগ পেয়েছিলেন। এ কারণে ভোটার তালিকা হালনাগাদের পাশাপাশি মৃত ভোটারদের শনাক্ত ও বাতিল করার উদ্যোগ নেন তারা। শেষ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় সাড়ে ২১ লাখ মৃত ভোটার চিহ্নিত করে সেগুলো বাতিল করা হয়।

ইসি জানিয়েছে, সর্বশেষ হালনাগাদ বিধি অনুযায়ী, ভোটার তালিকার জন্য একজন নতুন ভোটারের জন্য তথ্য সংগ্রাহকরা সমতলে ৫০ টাকা ও দুর্গম এলাকায় ৭০ টাকা করে পান। আর মৃত ভোটারের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সমতলে ২০ টাকা এবং দুর্গম এলাকায় ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সুপারভাইজাররা নতুন ভোটারের জন্য সমতলে ১২ টাকা ও দুর্গম এলাকায় ১৮ টাকা এবং মৃত ভোটারের জন্য সমতলে ৭ টাকা ও দুর্গম এলাকায় ১২ টাকা করে পান। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় বিশেষ ফরম ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রাহকরা ৪০ টাকা এবং সুপারভাইজাররা ৮ টাকা করে পান। এই তথ্য সংগ্রহকারীদের তালিকায় ইমাম, পুরোহিত, চৌকিদার, পরিবার পরিকল্পনা কর্মী এবং কবরস্থান পরিচালনাকারীদের যুক্ত করা হবে।

এ বিষয়ে ইসির জাতীয় পরিচয় (এনআইডি) নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এএস এম হুমায়ুন কবীর সমকালকে বলেছেন, ভোটার তালিকায় মৃত ভোটার শনাক্তে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ধর্মীয় গুরু- যেমন ইমাম ও পুরোহিতরা নিজ নিজ এলাকায় মৃত্যুর তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকেন। চৌকিদাররাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। কারণ, তারা নিয়মিত থানা ও উপজেলায় তথ্য দেন। হাসপাতাল থেকেও মৃত্যুসনদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে। একইভাবে পরিবার পরিকল্পনা কর্মী, যারা বাড়ি বাড়ি যান- তাদের কাছ থেকেও তথ্য পাওয়া সম্ভব। এছাড়া বড় শহরের কবরস্থান পরিচালনাকারীদের এ কার্যক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উৎস ব্যবহার করা গেলে মৃত ভোটার শনাক্ত করা সহজ হবে।

সঠিক তথ্য প্রদানের ভিত্তিতে তাদের সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ভোটার হালনাগাদে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সম্মানী দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে যারা এ কাজে যুক্ত থাকবেন, তাদের সারাবছরই সম্মানী দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে এএস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, নির্দিষ্ট একটি ফরম পূরণ করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর মৃত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হবে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট মৃত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০, পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

আরও পড়ুন

×