ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ থাকবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি

জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ  থাকবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৫২

| প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসায় বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরতে পারে। সেই সঙ্গে সেবা ও কৃষি খাতেও উন্নতির সম্ভাবনা আছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী না হলে যুদ্ধের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে আসবে। তবে জ্বালানি পণ্যে ইতোমধ্যে বেড়ে যাওয়া দামের প্রভাবে বাজেট ঘাটতি বাড়তে পারে। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি আগের মতোই উচ্চ পর্যায়ে থাকবে। গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৯ শতাংশ। 

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে এসব কথা বলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। গত ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে টানা তিন বছর প্রবৃদ্ধির গতি নিম্নমুখী। মূলত সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, বন্যায় কৃষি খাতে ফসলের ক্ষতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এটি হয়েছে। 

তবে চলতি অর্থবছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি ঘটবে বলে আশা করছে এডিবি। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও কিছুটা বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছর ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে। জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসার ফলে এটি সম্ভব হবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যা গত প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী না হলে এর প্রভাব ধীরে ধীরে কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। 
এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যা বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, বৈদেশিক বাণিজ্য ও আর্থিক খাতের চাপের কারণে হয়েছে। তবে নতুন সরকার যথাযথ নীতি ও ধারাবাহিক সংস্কার পদক্ষেপ নিলে অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে এবং দেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে পারবে বলে আশা করেন তিনি। 

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছি উচ্চ অবস্থানে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহজনিত সমস্যা। তবে আগামী অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে নামতে পারে। কারণ, বহিস্থ চাপ কমবে এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে। এর আগে গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০ শতাংশ  মূল্যস্ফীতি হয়। 

এডিবির মনে করছে, এই অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি হতে পারে জিডিপির শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ, যা আগামী অর্থবছরে সামান্য বেড়ে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। এর প্রধান কারণ আমদানি ব্যয় ও বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাওয়া। তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও রেমিট্যান্স প্রবাহ স্বল্প মেয়াদে স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে ভোগ ও বিনিয়োগে মাঝারি আকারে প্রবৃদ্ধি থাকতে পারে। শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকারি ব্যয় একে সহায়তা করবে। বিনিয়োগ বাড়ানো ও ব্যবসা সহজ করার লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া উদ্যোগও এতে সহায়ক হবে। সরবরাহের দিক থেকে সেবা খাতও পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রয়ক্ষমতা ও সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় বাড়া এবং আর্থিক খাতের সংস্কারও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। অনুকূল আবহাওয়া ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। রপ্তানি বাড়া, সরবরাহ বাধা কমে আসার পাশাপাশি অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে গুরুত্ব দিলে শিল্প খাতে মাঝারি ধরনের প্রবৃদ্ধি হতে পারে।

তবে কয়েকটি ঝুঁকির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে এডিবি। সংস্থাটি বলেছে, কিছু ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়। সে ক্ষেত্রে জ্বালানির বিশ্ববাজার, শিপিং রুট এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটলে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। যেটি দেশের অভ্যন্তরে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াবে ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণকে জটিল করে তুলবে। এডিবি মনে করে, ইতোমধ্যে বেড়ে যাওয়া উচ্চ জ্বালানি মূল্য বাজেট ঘাটতি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যদি জ্বালানি ভর্তুকি বাড়ানো হয় বা মূল্য সমন্বয় সঠিকভাবে না করা হয়।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির জন্য এডিবির প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে– সতর্ক ঋণ ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায় বাড়ানো, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, নীতি সংস্কার জোরদার করা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা 
নিশ্চিত করা, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি বিনিয়োগের দক্ষতা বাড়ানো। 

আরও পড়ুন

×