বিবিএসের জরিপ
ইন্টারনেট সেবার বাইরে দেশের ৪৭% মানুষ
৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ২৩:০১
দেশে প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। ইন্টারনেটের মৌলিক ব্যবহার খুব বেশি নয়। ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ চাকরির বিজ্ঞপ্তি খোঁজার কাজে এটি ব্যবহার করেন। মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন দেশের ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
‘আইসিটি অভিগম্যতা এবং পরিবার ও ব্যক্তির ব্যবহার-২০২৪-২৫’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। দেশে জেলাভিত্তিক এ ধরনের আইসিটি প্রতিবেদন এটিই প্রথম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। জরিপের তথ্য তুলে ধরেন জরিপ প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দা মারুফা।
জরিপে জানা গেছে, দেশে ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, অর্থাৎ ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ এখনও ইন্টারনেট সেবার বাইরে। ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে বড় বাধা উচ্চমূল্য। জরিপে অংশগ্রহণকারীর ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ জানিয়েছেন, ইন্টারনেটের বেশি খরচের কারণে তারা এটি ব্যবহার করতে আগ্রহী নন, বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি। ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি খোঁজার কাজে। এর পরেই রয়েছে খেলাধুলাবিষয়ক তথ্য অনুসন্ধান প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে অনলাইনে পণ্য বা সেবা কেনার হার এখনও কম– ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।
জরিপের উপাত্ত অনুযায়ী, ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের মধ্যে বেশ ব্যবধান রয়েছে। শহরে ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, গ্রামে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। পুরুষদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ, নারীদের মধ্যে তা ৫০ দশমিক ২ শতাংশ।
ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে মৌলিক কাজের আধিক্য দেখা গেলেও উন্নত দক্ষতার ঘাটতি স্পষ্ট। জরিপে অংশ নেওয়া ৮৪ শতাংশ ব্যবহারকারী কপি-পেস্ট করতে পারেন। তবে ফাইল স্থানান্তরের মতো কাজ করতে পারেন মাত্র ১৫ শতাংশ। এতে বোঝা যায়, প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বাড়লেও দক্ষতা উন্নয়ন এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
জেলাভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ইন্টারনেট ব্যবহারে শীর্ষে ঢাকা। এখানে ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এর পরই আছে নারায়ণগঞ্জ। এই জেলায় ৭৭ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। সবচেয়ে কম ইন্টারনেট ব্যবহার হয় শেরপুরে। এই জেলায় ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ এটি ব্যবহার করেন।
স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও জেলাভেদে বড় পার্থক্য রয়েছে। সবচেয়ে বেশি স্মার্টফোন ব্যবহার হয় কুমিল্লায়। এই জেলায় ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। এরপর রয়েছে ফেনী। এই জেলায় ৯০ দশমিক ৬ শতাংশ ও ঢাকা জোলায় ৮৪ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। পঞ্চগড়ে স্মার্টফোন ব্যবহার সবচেয়ে কম, মাত্র ৫০ দশমিক ১ শতাংশ।
মোবাইল ফোন ব্যবহারের দিক থেকে দেশের প্রায় সব জেলার চিত্র কাছাকাছি। সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী কিশোরগঞ্জে। এই জেলায় ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করেন। সবচেয়ে কম মোবাইল ব্যবহার হয় নড়াইল জেলায়। সার্বিকভাবে দেশে ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবারে অন্তত একটি মোবাইল ফোন আছে।
জরিপে অংশ নেওয়া মোবাইল ব্যবহারকারীর ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা সাইবার আক্রমণের ক্ষেত্রে কিছুটা সচেতন। ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারীর জন্য ভাইরাস ও ক্ষতিকর সফটওয়্যার বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।
জরিপে জানা গেছে, কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। শহরে ২১ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারের কম্পিউটার থাকলেও গ্রামে তা মাত্র ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ব্যক্তি পর্যায়েও প্রায় একই রকম চিত্র। শহরে ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করেন, গ্রামে মাত্র ৫ শতাংশ।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উন্মুক্ত আলোচনায়ও প্রযুক্তি ব্যবহারে বড় ব্যবধানের বিষয়টি উঠে আসে। বক্তাদের মতে, দেশে প্রযুক্তির সম্প্রসারণ দ্রুত ঘটলেও তা এখনও সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে জেলা, গ্রাম-শহর এবং নারী-পুরুষের মধ্যে পর্থক্য রয়ে গেছে। পাশাপাশি উন্নত ডিজিটাল দক্ষতার অভাব, উচ্চ খরচ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদনসহ সম্ভব সব কাজে আইসিটির আরও ব্যাপক ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তারা।
- বিষয় :
- ইন্টারনেট সেবা
- বিবিএস
- জরিপ
