ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

একক বক্তৃতায় অধ্যাপক ফায়েক উজ্জামান

মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত কাঠামোতে এনেছিল

মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত কাঠামোতে এনেছিল
×

‘মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকার: গঠন ও তাৎপর্য’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে একক বক্তৃতা দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ফায়েক উজ্জামান। শুক্রবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সেমিনার হলে

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:০৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৭ এপ্রিল এক অনন্য তাৎপর্যময় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে গঠিত হয় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার, যা ‘মুজিবনগর সরকার’ নামে পরিচিত। এই সরকার মুক্তিযুদ্ধকে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে নিয়ে আসে। মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে একক বক্তৃতায় এসব কথা বলা হয়।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে জাদুঘরের সেমিনার হলে আয়োজিত এ বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকার : গঠন ও তাৎপর্য’। এতে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান।

বক্তৃতায় তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের বহুমাত্রিক ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করেছে। ভারতের সহায়তায় বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোদ্ধাদের প্রস্তুত করে দেশে পাঠানো হয়। যুদ্ধকৌশল হিসেবে গেরিলা পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা স্বল্প শক্তিতে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়ক হয়।
অর্থায়নের প্রশ্নে তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা অর্থ, প্রবাসী বাঙালিদের সহায়তা এবং ভারত সরকারের প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে সরকারের আওতায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, এমনকি সেক্টর কমান্ডারদের জন্যও বেতন ও ভাতার ব্যবস্থা ছিল, যা একটি কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামোর প্রমাণ।
শরণার্থী ব্যবস্থাপনাতেও সরকারের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। রেশন কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য বিতরণ, শরণার্থী শিবিরে অস্থায়ী স্কুল স্থাপন এবং শিক্ষকদের নিয়োগের মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে যুদ্ধের মধ্যেও একটি সামাজিক কাঠামো সচল রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল।

কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও সরকার সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। বিদেশে কর্মরত বাঙালি কূটনীতিকদের বাংলাদেশের পক্ষে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং অনেকেই সে আহ্বানে সাড়া দেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনের চেষ্টা চালানো হয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ক্রীড়া উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বজনমত গঠনের প্রচেষ্টাও ছিল সমান্তরালভাবে চলমান।

মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় ১১টি সামরিক সেক্টরের পাশাপাশি বেসামরিক প্রশাসনের জন্য গঠন 
করা হয় জোনাল কাউন্সিল। এ ছাড়া সব রাজনৈতিক শক্তিকে একত্র করতে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের উদ্যোগ যুদ্ধকে একটি সর্বজনীন জনযুদ্ধে রূপ দেয়।
বক্তৃতার শেষাংশে তিনি তৎকালীন নেতৃত্বের ত্যাগ ও দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন, বিশেষ করে তাজউদ্দীন আহমদের ব্যক্তিগত ত্যাগের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে বলেন, এই সম্মিলিত আত্মত্যাগই স্বাধীনতার পথকে সুগম করেছে।

আরও পড়ুন

×