ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম

ধানক্ষেতে নেক ব্লাস্ট ছত্রাকের সঙ্গে জ্বালানি সংকট, দিশেহারা কৃষক

ধানক্ষেতে নেক ব্লাস্ট ছত্রাকের সঙ্গে জ্বালানি সংকট, দিশেহারা কৃষক
×

মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ২৩:৪০

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাওরাঞ্চলে ধানক্ষেতে ছত্রাকজনিত ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ধান কাটার মৌসুম সামনে রেখে জ্বালানি সংকটে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

‎‎হাওরজুড়ে এখন বোরো ধান কাটার প্রস্তুতি চলছে। কয়েক দিনের মধ্যেই পুরোদমে শুরু হবে ধান কাটা ও মাড়াই কার্যক্রম। কিন্তু মাঠে গিয়ে অনেক কৃষকই হতাশ হয়ে ফিরছেন। সবুজ ধানের মাঝে দেখা যাচ্ছে শুকিয়ে যাওয়া শীষ, যা নেক ব্লাস্ট রোগের লক্ষণ। এতে ধানের শীষ চিটা হয়ে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
‎‎অষ্টগ্রামের জোয়ান শাহী বড় হাওর, ধোপাবিল, মান্দা, কাইছনা, পাতাইরবন্ধ, চিনাকান্দি, ভাতশালা হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় নেক ব্লাস্টের সংক্রমণের বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে। কৃষকদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের পর থেকেই ধানক্ষেতে এ রোগ ছড়াতে শুরু করে। বিশেষ করে ব্রি-২৮, ব্রি-২৯, ব্রি-৮৮ ও ব্রি-৭৫ জাতের ধানে নেক ব্লাস্টের সংক্রমণ বেশি।

কৃষকদের অভিযোগ, নেক ব্লাস্ট রোগ দমনে মাঠ পর্যায়ে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে এখনও কার্যকর পরামর্শ ও সহায়তা পাচ্ছেন না। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে চলতি মৌসুমে হাওরাঞ্চলের বোরো উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। জরুরি ভিত্তিতে নেক ব্লাস্ট দমন এবং জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন চাষিরা।

‎‎জোয়ান শাহী বড় হাওরের কৃষক খোকন মিয়া জানান, তিনি প্রায় ৬৫ একর জমিতে ধান আবাদ করেছেন। কিন্তু নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর বড় অংশের ফলন হুমকির মুখে। একই হাওরের কৃষক মো. রিপন মিয়া আট একর জমিতে ধান চাষ করেছেন। তাঁর জমির বেশির ভাগ ধানই এ রোগে আক্রান্ত।

‎‎মান্দা এলাকার কৃষক মজনু মিয়া বলেন, ‘ভালো ফলন হলে প্রায় আড়াইশ মণ ধান পাওয়ার আশা ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আশা অনেকটাই ক্ষীণ। ধান ভালো হলে দেনা শোধ করতে পারতাম। এখন অর্ধেক ফলনও পাব কিনা সন্দেহ।’

‎‎একই এলাকার কৃষক সজিদ মিয়া জানান, তাঁর আড়াই একর জমির ব্রি-২৯ ধান ‘নেক ব্লাস্ট’-এ আক্রান্ত হয়ে অধিকাংশ শীষ সাদা হয়ে গেছে।
এদিকে ধান কাটার মৌসুম শুরু হতেই কৃষকদের জন্য বিপদ হিসেবে যোগ হয়েছে জ্বালানি সংকট। ধান কাটার মৌসুমে হারভেস্টার, থ্রেসারসহ বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র চালাতে প্রয়োজন হয় ডিজেল। হাওরাঞ্চলে বর্তমানে জ্বালানি তেলের সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

‎‎অষ্টগ্রামের একাধিক কৃষক বলেন, সময়মতো ডিজেল না পেলে মেশিন চালানো যাবে না। তখন ধান কাটতে দেরি হবে, এতে আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তারা দ্রুত সরকারি ব্যবস্থাপনায় হাওরাঞ্চলে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

‎‎অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলায় ২৪ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলনের আশা করা হচ্ছিল। সম্প্রতি নেক ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ এবং জ্বালানি সংকট সেই সম্ভাবনাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।

‎‎অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার বলেন, বোরো ধান কাটা ও মাড়াই কাজে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য উপজেলার তিনজন ডিলার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানি থেকে ডিজেল সংগ্রহ করবে। খুব শিগগিরই এ ডিজেল অষ্টগ্রামে আসবে।

‎‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শফিকুর রহমান জানান, হাওরের বিভিন্ন এলাকায় নেক ব্লাস্ট রোগের উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চাষিদের কীটনাশক ব্যবহারের নির্দেশনা দিতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশাবাদী তিনি।

আরও পড়ুন

×