ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ঢাকায় দুই শৌচাগার থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার

একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা পুলিশের, অপরটি নিয়ে ধোঁয়াশা

ঢাকায় দুই শৌচাগার থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার
×

প্রতীকী ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ২২:১৮

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে একটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক হোস্টেলের শৌচাগার থেকে এক শ্রমিককে গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধারের পর হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নাম ইয়াকুব আলী (২৫)। গত বুধবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার গ্রিন রোডের আবাসিক হোটেলের শৌচাগার থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি গোলাম ফারুক সমকালকে বলেন, ইয়াকুব আলী ম্যাটাডোর গ্রুপের কর্মচারী ছিলেন। তিনি লেকপাড় এলাকায় কোম্পানির শ্রমিক হোস্টেলেই থাকতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি হত্যাকাণ্ড। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। সেই সঙ্গে ঘটনাটির বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, রাত ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ইয়াকুবকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

ইয়াকুবকে হাসপাতালে নিয়ে যান ম্যাটাডোরের সহকারী ব্যবস্থাপক বজলুর রহমান। তিনি বলেন, রাতে খবর পেয়ে হোস্টেলের শৌচাগার থেকে তাঁকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতাল নিয়ে যাই। শৌচাগারের দরজা খোলা ছিল এবং সেখানে দুটি ব্লেড পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

মৃতের বড় ভাই মো. আরফান বলেন, লাশ দেখে মনে হয়েছে, আমার ভাইকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তিন ভাইয়ের মধ্যে ইয়াকুব ছোট ছিলেন বলে জানান তিনি।

আবাসিক হোটেলে নারীর মরদেহ
রাজধানীর গ্রিন রোডের একটি আবাসিক হোটেলের শৌচাগার থেকে তানিয়া নবী (৩০) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আইইএলটিএস পরীক্ষা দিতে ঢাকায় এসে ওই হোটেলে উঠেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কলাবাগান থানার ওসি ফজলে আশিক জানান, তানিয়া ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বোয়ালী এলাকার বাসিন্দা মো. নুরুন্নবীর মেয়ে। ১৯ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে তিনি গ্রিন রোডের রূপসা আবাসিক হোটেলের ৪১৮ নম্বর কক্ষে ওঠেন। গত বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে তিনি রিসেপশনে কথা বলে নিজের কক্ষে যান। পরে দুপুর ১২টা ৭ মিনিটের দিকে নাশতার অর্ডার দেন। এরপর থেকে তাঁর কোনো সাড়া পায়নি হোটেলের লোকজন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে হোটেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ডেকে সাড়া না পেয়ে দরজায় ধাক্কা দেন। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে দরজার ছিটকিনি ভেঙে তারা ভেতরে ঢোকেন। তখন শৌচাগারের কমোডের ওপর তাঁকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে কলাবাগান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর ঘরের ভেতর কিছু ওষুধ পাওয়া গেছে।

কলাবাগান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. সাইফুদ্দিন জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং আলামত জব্দ করা হয়েছে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন

×