তদন্তে আরও ছয় মাস সময় পেল টাস্কফোর্স
মেহেরুন রুনি ও সাগর সরওয়ার। ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:০৯ | আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:২৫
দীর্ঘ ১৪ বছরেও রহস্য উন্মোচন না হওয়া সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ করতে না পারায় এই নতুন সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলো। এর আগে গত বছরের ২৩ অক্টোবর আদালত তদন্তের জন্য ৬ মাস সময় দিয়েছিলেন, যার মেয়াদ গতকাল শেষ হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল গতকাল নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, এ মামলার তদন্তে থানা, ডিবি ও র্যাব মিলিয়ে ১২ বছর আট মাস ২১ দিন সময় পার হয়েছে। ১৩ বছরেও একটি চাঞ্চল্যকর হত্যার চার্জশিট দিতে না পারা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মামলাটি প্রথমে থানা চার দিন, এর পর ডিবি দুই মাস দুদিন এবং পরে র্যাব দীর্ঘ সময় তদন্ত করেছে। তদন্তকালে আটজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাদের মধ্যে সাতজন কারাগারে এবং একজন জামিনে গিয়ে পলাতক। তদন্ত এখনও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। আগের তদন্ত সংস্থাগুলোর তথ্য হস্তান্তরে ঘাটতি থাকায় নতুন টাস্কফোর্স কাজ করতে সমস্যায় পড়ছে।
শুনানি চলাকালে রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির ও মনজিল মোরসেদ তদন্ত কর্মকর্তাকে সশরীরে তলবের আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, তদন্ত কর্মকর্তা একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও সময় চেয়েছেন।
আইনজীবী শিশির মনির আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় ১৪ বছর হয়ে গেল, হত্যার রহস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উদ্ঘাটন করতে পারছে না। টাস্কফোর্স রিপোর্ট দিয়ে বলছে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, র্যাবের ডিজি ও একজন সাংবাদিকের সঙ্গে তারা কথা বলতে চান। কিন্তু তারা তো দেশের সীমানার মধ্যে নেই। টাস্কফোর্স বলেছে– তারা এখনও মোটিভ খুঁজে পাননি, ক্লু খুঁজে পাননি– কেন তাদের হত্যা করা হলো। শেষ পর্যন্ত টাস্কফোর্সও যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে আমাদের যাওয়ার জায়গা নেই। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, অ্যাটর্নি জেনারেল তাদের (টাস্কফোর্স) সমর্থন করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, এটি তারা আগামী ছয় মাসের মধ্যে কার্যে পরিণত করে দেখাবেন।
১২৫ বার পিছিয়েছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। ওই সময় রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট মামলাটির তদন্তের নির্দেশ দেন র্যাবকে। তবে দীর্ঘ সময়েও সংস্থাটি রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। বর্তমানে একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি তদন্ত পরিচালনা করলেও এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ১২৫ বার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় পিছিয়েছে।
- বিষয় :
- সাগর-রুনি হত্যা
- টাস্কফোর্স
