রূপপুরে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখা হয়েছে: রোসাটম মহাপরিচালক
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রোসাটম মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। ছবি-সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ২২:২২
রাশিয়ার পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখা হয়েছে। নিরাপদ পারমাণবিক কেন্দ্র থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
মঙ্গলবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এই আয়োজনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি কমিশনের মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন রোসাটম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল ঠিকাদার হিসেবে পুরো প্রকল্পটির নকশা, নির্মাণ, ইউরেনিয়াম জ্বালানি সরবরাহ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছে।
রোসাটম মহাপরিচালক বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশকে যেভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও সেভাবে পাশে থাকব।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই। এ প্রকল্পে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখা হয়েছে। নিরাপদ পারমাণবিক কেন্দ্র থেকেই সরবরাহ করা হবে বিদ্যুৎ। এমনকি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ভবিষ্যতের প্রয়োজনে সহযোগিতায় থাকবে রোসাটম।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। প্রাথমিকভাবে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স প্রদান করে, যা জ্বালানি লোডিংয়ের পথ সুগম করে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান জানান, কেন্দ্র পরিচালনার জন্য ৫২ জন বিশেষজ্ঞ লাইসেন্স অর্জন করেছেন। তাদের সঙ্গে রাশিয়ার লাইসেন্সধারী অপারেটরদের সমন্বয়ে কেন্দ্র পরিচালিত হবে।
প্রকল্প কর্মকর্তারা আরও জানান, উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে এবং পূর্ণ সক্ষমতায় (১২০০ মেগাওয়াট) পৌঁছাতে ৮ থেকে ১০ মাস সময় লাগতে পারে। এছাড়া এ বছরের শেষ দিকে দ্বিতীয় ইউনিটেও ফুয়েল লোডিং শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা রয়েছে। দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর সমন্বয়ে গঠিত এ কেন্দ্রের দুই ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশের মোট চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করবে।
রূপপুরের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, আমরা কোনদিনও চিন্তা করি নাই যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। এখন এখানে আলো ঝলমল করবে। এটি অবিশ্বাস্য ব্যাপার।
আব্দুস সামাদ নামের এক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের ক্রেতা মূলত রাশিয়ানরা। আমরা এখন রাশিয়ান ভাষায় কথা বলি। তারা আমাদের বোঝে আমরাও তাদের কথা ভাষা বুঝি।
আলেয়া খাতুন নামের এক গার্মেন্টস দোকানের কর্মী বলেন, আমাদের এখানে ক্রেতা মূলত রাশিয়ানরা। তাদের চাহিদামতো আমরা কাপড় বানাই ও বিক্রি করি।
বাজারের বাসিন্দা ৭০ বছরের তেজারত আলী বলেন, এখানে জঙ্গল ছিল। সাপ বেজি নেউল বসবাস করতো। এখন আলো ঝলমলে এলাকা এটা অকল্পনীয়।
