ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সেমিনারে বক্তারা

‘শিক্ষা জীবনমুখী না হয়ে সার্টিফিকেটমুখী হয়ে গেছে, এটাই সংকটের কেন্দ্রবিন্দু’ 

‘শিক্ষা জীবনমুখী না হয়ে সার্টিফিকেটমুখী হয়ে গেছে, এটাই সংকটের কেন্দ্রবিন্দু’ 
×

‘বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট: শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয়’ সেমিনার

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬ | ১৭:১৬

‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা এখন জীবনমুখী না হয়ে সার্টিফিকেটমুখী হয়ে গেছে। এটাই সংকটের কেন্দ্রবিন্দু।’ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট: শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয়’ সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। বৃহত্তর কুমিল্লা উন্নয়ন পরিষদ, ঢাকা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবদুল লথিফ মাসুম। 

বক্তব্যে তিনি বলেন,  প্রথমত শিক্ষার উদ্দেশ্য পুনঃসংজ্ঞায়ন করতে হবে। শিক্ষাকে মানবসম্পদ উন্নয়ন, নাগরিকত্ব গঠন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ইউনেস্কোর ‘ ইডুকেশন ২০৩০ ফ্রেমওয়ার্ক’ অনুযায়ী শিক্ষা হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত এবং জীবনব্যাপী শেখার সুযোগ প্রদানকারী।
দ্বিতীয়ত, কারিকুলামকে আউটকাম বেজড এবং কমপিটেন্সি বেজড করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব দক্ষতা অর্জন করতে পারে। তত্ত্বের পাশাপাশি প্রয়োগভিত্তিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। তৃতীয়ত, মূল্যায়ন পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। পরীক্ষার পাশাপাশি প্রকল্পভিত্তিক মূল্যায়ন ও সমস্যা সমাধানে সমালোচনামূলক চিন্তার ওপর জোর দিতে হবে।
চতুর্থত, শিক্ষক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। ওইসিডির গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষার মান উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো শিক্ষক মান। পঞ্চমত, শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নীতির অধীনে আনতে হবে, যা সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে পরিবর্তিত হবে না। ষষ্ঠত, শিক্ষা ও শ্রমবাজারের মধ্যে সংযোগ জোরদার করতে হবে, বিশেষ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে।

সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট কোনো একক সমস্যার ফল নয়; এটি একটি গভীর কাঠামোগত ও দৃষ্টিভঙ্গিগত ব্যর্থতা। এই সংকট সমাধানে প্রয়োজন তাত্ত্বিকভাবে সুসংহত, গবেষণাভিত্তিক এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সংস্কার। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমন্বয় পরিষদের সভাপতি প্রিন্সিপাল শফিকুল ইসলাম। শেখ ফরিদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, অধ্যক্ষ আমিনুল হক মো. দেলোয়ার হোসেন, রফিকুল ইসলাম, অধ্যক্ষ নুর হোসেন, প্রফেসর মিসেস ফরিদা ইয়াসমিন, ড. প্রিয়াঙ্কা গোপ, অধ্যক্ষ জুলহাস হোসেন প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×