রাত ৯টা পর্যন্ত শপিংমল খোলা রাখতে চায় দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ১৮:৫৭ | আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ | ২০:০৫
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার্থে শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধের সময়সীমা সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ৯টা পর্যন্ত করার দাবি জানিয়েছে দেশের দোকান মালিকদের একাংশের সংগঠন বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।
শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটি এই আবেদন জানায়।
চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শপিংমল বন্ধ রাখার কারণে দেশের হাজার হাজার ব্যবসায়ী চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বেশিরভাগ ক্রেতা অফিস শেষ করে সন্ধ্যার পর কেনাকাটা করতে আসেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগে শপিংমল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিক্রয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে এবং ব্যবসার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে।
চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইতিমধ্যে তৈরি পোশাক ও ক্ষুদ্র দোকানদাররা সংকটে পড়েছেন।
দোকান ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বহু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, যা বেকারত্ব বাড়াবে। এছাড়া ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ সরকারের রাজস্ব আয় কমে যেতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
চিঠিতে দাবি করা হয়, বৈধ দোকান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে। একটি বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, একদিকে বৈধ ব্যবসায়ীরা সময়সীমার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে সন্ধ্যা ৭টার পর অনেক ভ্যানভিত্তিক অননুমোদিত ব্যবসা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে দোকানদারি চালাচ্ছে। এতে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন এবং বাজারে এক ধরনের অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে দোকান মালিক সমিতি প্রস্তাব দেয় যে, প্রয়োজনে শপিংমল খোলার সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে সকাল ১১টা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এতে দিনের আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং ব্যবসায়ীরাও সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত সময় পাবেন।
চিঠিতে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তারা বিদ্যুৎ সাশ্রয়, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্ধারিত নীতিমালা মেনে চলতে এবং প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
