ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে গাফিলতির কারণে মৃত্যু বাড়ছে

অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে গাফিলতির কারণে মৃত্যু বাড়ছে
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ০৮:৪৭ | আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ | ১১:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

শ্বাসনালির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ অ্যাজমা বা হাঁপানি। রোগটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য হলেও সচেতনতার অভাব, চিকিৎসায় অনিয়ম এবং ইনহেলার ব্যবহারে বৈষম্যের কারণে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এ পটভূমিতে আজ মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব অ্যাজমা দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ইনহেলার এখন জরুরি’। 

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কার্যকর চিকিৎসা থাকার পরও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে এ রোগ প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। রোগটি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় প্রতিরোধ কর্মসূচি থাকা জরুরি।

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন এক লাখ ৫৬ হাজার অ্যাজমা রোগী। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৭৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ২৫ শতাংশ নারী। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী রোগী ৪৭ শতাংশ, ৫০ বছরের বেশি ৩৬ শতাংশ। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫ হাজার ৩৯০ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন এক হাজার ১৭০ জন এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন আরও ১৫৫ জন। মৃতদের ৭০ শতাংশই পুরুষ, আর প্রায় ৭৫ শতাংশের বয়স ৫০ বছরের বেশি। গত পাঁচ বছরে রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিক বেড়েছে। ২০২০ সালে রোগী ছিল ৯৮ হাজার ৯৯১ জন, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজারে অর্থাৎ বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ। একই সময়ে মৃত্যুও বেড়েছে ৬১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

দেশে আক্রান্ত এক কোটির বেশি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ অ্যাজমায় আক্রান্ত। বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য সাম্প্রতিক জাতীয় জরিপ না থাকলেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বর্তমানে দেশে এক কোটির বেশি মানুষ এ রোগে ভুগছেন। প্রতি ১০০ জনে চার থেকে সাতজন আক্রান্ত। শহরাঞ্চলে বায়ুদূষণ, ধুলাবালি ও জীবনযাত্রার কারণে আক্রান্তের হার অত্যধিক, আর শিশুদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বছরে প্রায় ২০ হাজার মানুষ অ্যাজমাজনিত কারণে মারা যায়।

চিকিৎসা আছে, তবু ঝুঁকি কেন
জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. রশিদুল হাসান বলেন, অ্যাজমা রোগের প্রধান চিকিৎসা হলো ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড। অনেক রোগী শুধু রিলিভার ইনহেলার ব্যবহার করেন, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা নেন না। ফলে রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে না, বারবার অ্যাটাক হয়। তিনি জানান, ইনহেলারে খাওয়ার ওষুধের তুলনায় প্রায় ২০০ ভাগের ১ ভাগ কম শক্তি থাকে, ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম। নিয়মিত কন্ট্রোলার ইনহেলার ব্যবহার করলে নেবুলাইজারের প্রয়োজন কমে যায়।

চ্যালেঞ্জ: সচেতনতার অভাব ও ব্যয়
বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, নগরায়ণ, বায়ুদূষণ, ধূমপান ও অ্যালার্জেনের কারণে অ্যাজমা রোগ বাড়ছে। তবে বড় সমস্যা হলো রোগ নির্ণয়ের পরও অনেকে সঠিক চিকিৎসা অনুসরণ করেন না। তিনি বলেন, ইনহেলার নিলে আসক্তি হয়, এমন ভুল ধারণা এখনও প্রচলিত। আবার অনেকের জন্য নিয়মিত ইনহেলার ব্যবহার ব্যয়বহুল। ফলে রোগ নিয়ন্ত্রণে আসে না।

বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সংগঠন সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ ফোরামের সভাপতি কাজী সাইফউদ্দীন বেন্নূর বলেন, অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। সবার জন্য সাশ্রয়ী দামে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ইনহেলার নিশ্চিত করা এবং সরকারের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ইনহেলার যুক্ত করা দরকার যাতে সবাই বিনামূল্যে এই সেবা পেতে পারে। রোগী ও পরিবারের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সঠিক পদ্ধতিতে ইনহেলার ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নিয়মিত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অ্যাজমাজনিত মৃত্যু কমানো সম্ভব।

আরও পড়ুন

×