ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

কেআইবিতে চাঁদাবাজির অভিযোগ, কৃষিবিদদের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা

কেআইবিতে চাঁদাবাজির অভিযোগ, কৃষিবিদদের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০০:৪৫ | আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ | ০১:০১

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) তহবিল থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৪ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও অ্যাগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) সদস্যসচিব শাহাদাত হোসেন বিপ্লবের বিরুদ্ধে। এরই জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার কেআইবি প্রাঙ্গণে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। 

কেআইবির হিসাব বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক দিলিপ কুমার সরকারের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে ৪ লাখ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। ঘটনার সময় শাহাদাত হোসেন বিপ্লবের সঙ্গে কৃষিবিদ সবুর, রিজভী, আমান, শ্যামল, টিপুসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। অবশ্য গত বুধবার ফেসবুকে দেওয়া আরেকটি ভিডিওতে দিলিপ  বলেন, তাকে কেউ ভয়ভীতি দেখায়নি। সংস্কার কাজের বিল হিসেবে তিনি ৪ লাখ টাকা দিয়েছেন।

যদিও এ ঘটনায় গত ১ মে কেআইবির প্রশাসক কৃষিবিদ মো. আজিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় দিলিপ কুমার সরকারকে। নোটিশে বলা হয়, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কেআইবির তহবিল থেকে ৪ লাখ টাকা জনৈক রিজভীকে প্রদান করা হয়।

চার লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর কৃষিবিদদের মধ্যে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় একদল কৃষিবিদ বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুপুরের পর এ্যাবের কয়েকজন নেতা ও তাঁদের সমর্থকেরা কেআইবির মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন। অন্যদিকে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া কৃষিবিদরা ভবনের ভেতরে অবস্থান নেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে কর্মসূচি পালন না হলেও পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই কেআইবির বাইরে দুই পক্ষের কয়েকজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

প্রায় ৩৩ হাজার সদস্যের সংগঠন কেআইবিতে ২০০৯ সালের পর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগপন্থী বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কেআইবির নিয়ন্ত্রণ নেয় বিএনপিপন্থী কৃষিবিদদের সংগঠন এ্যাবের নেতারা। কিন্তু হলরুম ভাড়া ও খাবারের অর্থ বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে গত বছরের ১৭ জানুয়ারি দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। এরপর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ২০ জানুয়ারি লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুর রব খানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি নির্বাচন কমিশন গঠন করলেও বিরোধের কারণে নির্বাচন আর হয়নি।

কেআইবি সূত্র জানায়, গত বছরের ২৭ অক্টোবর বিকেলে এ্যাবের কিছু নেতা-কর্মী কেআইবি ভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। এতে কেআইবি কর্তৃপক্ষ এ্যাবের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান কায়সার, সদস্যসচিব শাহাদাত হোসেন বিপ্লব, কৃষিবিদ সবুর, আশরাফ, টিপু, এমদাদ হোসেন ও শাহাদাত হোসেন চঞ্চলসহ ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ্যাবের কিছু নেতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। 

আরও পড়ুন

×