ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

প্রকৃত পাসপোর্টধারীর বদলে অন্য নারীকে ইতালি পাঠানোর অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৭

প্রকৃত পাসপোর্টধারীর বদলে অন্য নারীকে ইতালি পাঠানোর অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৭
×

সোমবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ১৫:০৭ | আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ | ১৫:০৮

প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য নারীকে ইতালিতে পাঠানোর অভিযোগে মানবপাচারকারী একটি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চক্রটির বিরুদ্ধে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, সোমবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে।

অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কার্যালয় থেকে ৫৬টি পাসপোর্ট, সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত ১৫৩টি সিল, একটি এম্বোস সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ এবং নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে সিআইডি জানায়, ইতালিপ্রবাসী স্বামীর কাছে যাওয়ার জন্য এক নারী ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা দ্রুত পাসপোর্ট নবায়ন ও ইতালির ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন। পরে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে এরই মধ্যে অন্য এক নারী ইতালিতে প্রবেশ করেছেন।

পরে ভুক্তভোগী সিআইডির মানবপাচার শাখায় অভিযোগ করলে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। সিআইডির ভাষ্য, চক্রটি ভুক্তভোগীদের পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠাত।

প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানতে পেরেছে, চক্রটির মূলহোতা বেলায়েত হোসেন ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠিয়েছেন। একই ধরনের অপরাধে তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া একটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন।

সিআইডি জানিয়েছে, জব্দ করা পাসপোর্ট, সিল ও ডিজিটাল আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। পাশাপাশি চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগী, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×