মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত
এক বছরেও ক্ষতিপূরণ পায়নি হতাহতের পরিবার
ফাইল ফটো
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৬ | আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ | ১৩:১৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের আগুনে পোড়া ক্ষত এখনও বহন করছেন অন্তত ৬৩ জন আহত। অনেকে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন, কারও সামনে আরও অস্ত্রোপচার অপেক্ষা করছে। এই ঘটনায় ক্ষতি অপূরণীয় হলেও নিহত ও আহতদের পরিবার জানাচ্ছে, তদন্ত কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি তারা।
সরকারি তথ্যমতে, সে দিনের দুর্ঘটনায় আহত ১০১ জনের মধ্যে ৩৮ জন মারা গেছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বেঁচে আছেন ৬৩ জন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট জানাচ্ছে, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর আহতদের চিকিৎসার প্রস্তুতি শুরু হয়। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, ‘আহতদের অধিকাংশই ফ্লেম বার্ন ও ইনহেলেশন বার্নে আক্রান্ত ছিলেন। স্কুল ভবনের ভেতরে আটকে থাকায় শ্বাসনালির দগ্ধ হওয়ার ঘটনা বেশি ছিল, যা মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’
ক্ষতিপূরণের হদিস নেই
দুর্ঘটনায় আহত সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাভিদ নাওয়াজ দীপ্তের শরীরের ৫২ শতাংশ পুড়ে যায়। ৯৭ দিন পর বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে ছাড়া পায় দীপ্ত। এখন নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হয় তাকে। দীপ্তর বাবা মিজানুর রহমান বলেন, ‘চিকিৎসা, যাতায়াতসহ সব মিলিয়ে সংসারের ব্যয় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।’ নিহত তাসনিয়া হকের বাবা নাজমুল হক বলেন, ‘সন্তান হারানোর ক্ষতি কোনো অর্থ দিয়ে পূরণ হয় না। তারপরও তদন্ত কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী আমরা কিছুই পাইনি এক বছরে।’ তিনি জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিহতদের জন্য ২০ লাখ এবং আহতদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। কিন্তু কমিশনের সুপারিশের সঙ্গে প্রস্তাবটি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় পরিবারগুলো তা নেয়নি। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপদেষ্টা নুরুন্নবী বলেন, ‘আহতরা এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। তাদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি রাষ্ট্রের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।’
তদন্ত কমিশন নিহত শিশুদের পরিবারকে এক কোটি টাকা, প্রাপ্তবয়স্ক নিহতদের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ সুপারিশ করে। আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতিতে গুরুতর আহত শিশুদের ৬০ লাখ, মাঝারি আহতদের ৩০ লাখ এবং কম আহতদের ১৫ লাখ টাকা দিতে প্রস্তাব করা হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ হবে– গুরুতর আহতদের জন্য ৪০ লাখ, মাঝারি আহতদের ২০ লাখ এবং কম আহতদের ১০ লাখ টাকা।
এ ছাড়া চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য বার্ন ইনস্টিটিউটকে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ারও সুপারিশ ছিল। তবে নতুন অর্থবছরের বাজেটে এ উদ্দেশ্যে আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই। কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে কমিশনের সুস্পষ্ট সুপারিশ এক বছরেও বাস্তবায়ন না হওয়া হতাশাজনক। রাষ্ট্রের উচিত কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।’
এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়; তবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি
- ক্ষতিপূরণ