গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা
দেশে প্রতি পাঁচজনের একজন থাইরয়েড রোগে ভুগছেন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ২১:২০
দেশে প্রতি পাঁচজনের একজন কোনো না কোনো থাইরয়েড রোগে ভুগছেন। তবে আক্রান্তদের বড় একটি অংশ এখনো চিকিৎসাসেবার বাইরে রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাব ও সময়মতো পরীক্ষা না করানোর কারণে থাইরয়েড রোগ অনেক সময় নীরব ঘাতকে পরিণত হচ্ছে।
বিশ্ব থাইরয়েড দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি–এর নিনমাস কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটি (বিটিএস) ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘জানুন, পরীক্ষা করুন, জয় করুন এবং আপনার থাইরয়েড, আপনার রক্ষক’।
গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান আলোচক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, ওজন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু এই ছোট্ট গ্রন্থির জটিলতা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি জানান, হাইপোথাইরয়েডিজম, হাইপারথাইরয়েডিজম, গয়টার ও থাইরয়েড ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগ থাইরয়েডকে কেন্দ্র করে তৈরি হতে পারে। দেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েডজনিত সমস্যায় ভুগছেন। প্রতি সাতজন রোগীর মধ্যে পাঁচজনই নারী। আক্রান্তদের প্রায় ৬০ শতাংশ এখনো চিকিৎসাসেবার আওতায় আসেননি।
বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, প্রতি ২ হাজার ৩০০ শিশুর মধ্যে একজন জন্মগত থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত হয়। বংশগত কারণেও এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে। পরিবারে মা, নানী বা দাদীর থাইরয়েড সমস্যা থাকলে সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এ কারণে পরিবারভিত্তিক থাইরয়েড স্ক্রিনিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
জীবনের চার পর্যায়ে স্ক্রিনিং জরুরি
অধ্যাপক ফজলুল বারী বলেন, জীবনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে থাইরয়েড পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সেগুলো হলো জন্মের পরপরই, বয়সন্ধিকালে, গর্ভধারণের আগে এবং ৫০ বছর বয়সের পর।
তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে থাইরয়েড সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু উপসর্গকে অবহেলা করার কারণে অনেক সময় রোগ জটিল আকার ধারণ করে।
কাটা-ছেড়া ছাড়াই টিউমার অপসারণ
অনুষ্ঠানে থাইরয়েড চিকিৎসার আধুনিক প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ফজলুল বারী জানান, “রেডিওফ্রিকোয়েন্সি” ও “মাইক্রোওয়েভ” পদ্ধতির মাধ্যমে এখন কাটা-ছেড়া ছাড়াই সুই ব্যবহার করে থাইরয়েড টিউমার অপসারণ করা সম্ভব। তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে রোগীকে অজ্ঞান করার প্রয়োজন হয় না এবং হাসপাতালে দীর্ঘসময় অবস্থানও করতে হয় না। খরচও তুলনামূলক কম। এই প্রযুক্তি দেশের থাইরয়েড ও লিভার ক্যানসার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. কামালউদ্দিন আহমেদ অডিটোরিয়ামে বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। সেমিনারে ‘জানুন, পরীক্ষা করুন, জয় করুন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. এম সাইফুদ্দিন। আর “স্ট্যান্ডার্ডাইজড রিপোর্টিং ফরম্যাট অব থাইরয়েড আলট্রাসাউন্ড” বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. জীনাত জাবীন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা, অধ্যাপক ডা. ফরিদুল আলম, অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সাত্তারসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
- বিষয় :
- গোলটেবিল আলোচনা
- থাইরয়েড
- দিবস
