৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন
জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে স্বাস্থ্যখাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ১৪:২৬ | আপডেট: ২১ মে ২০২৬ | ১৫:০০
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে স্বাস্থ্যখাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। তিনি আরও বলেন, তবে এখনো দেশের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের ৭০ শতাংশের বেশি মানুষকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে, যা বহু পরিবারকে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে ফেলছে।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ৭৯তম ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলি’র মূল অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। গত ১৯ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের মূল অধিবেশনে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন তিনি। তার নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যবিষয়ক এ বৈশ্বিক আসরে অংশ নিচ্ছে।
বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য খাতে জনগণের ব্যয় কমাতে সরকার ধাপে ধাপে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে সবার জন্য সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, কার্যকর রেফারাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং যুগোপযোগী ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, সরকার সরকারি ও বেসরকারি খাতের স্বাস্থ্যতথ্য ব্যবস্থার সমন্বয়, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, প্রতিবন্ধীবান্ধব চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে।
মূল অধিবেশনের পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের একটি সাইড ইভেন্টে গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স গ্যাভির নীতিনির্ধারণী সভায়ও অংশ নেন ড. মুহিত। সেখানে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈশ্বিক টিকাদান কার্যক্রম ও স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নিয়ে মতবিনিময় করেন তিনি।
সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রোগের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং দেশের বিদ্যমান স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গার দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের সীমিত স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
ড. এম এ মুহিত নিরাপদ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায্য ‘প্যাথোজেন অ্যাক্সেস অ্যান্ড বেনিফিট শেয়ারিং’ ব্যবস্থা দ্রুত চূড়ান্ত করতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য অর্থায়নের সংকোচন, সংঘাত এবং মানবিক সংকট নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
এ সময় অসংক্রামক রোগ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বা অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারানোর মতো ‘নীরব ঘাতক’ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের তাগিদ দেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
