ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দেশের ইউনিয়নে চালু হবে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা 

দেশের ইউনিয়নে চালু হবে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা 
×

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরাম আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ২২:৩৪

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিটি ইউনিয়নে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী তিন বছরের মধ্যে লন্ডনের জিপি (জেনারেল প্র্যাকটিশনার) মডেলের আদলে সারাদেশে সমন্বিত প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরাম আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে সুস্থ শিশুদের পাশাপাশি ছোট ও অসুস্থ শিশুদের বাঁচাতে হবে’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। 

ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, প্রাথমিকভাবে পাঁচটি জেলায় এই পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসা দিয়ে রোগী সুস্থ না হলে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত উপজেলা বা জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো মা ও নবজাতকের চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে যেন ছোটাছুটি করতে না হয়। এজন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই প্রসূতি মা ও নবজাতকের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বলেন, নবজাতক সেবায় বিনিয়োগ শুধু স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় নয়; এটি ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অত্যাবশ্যক জাতীয় বিনিয়োগ। তিনি হিউম্যান মিল্ক স্টোরেজ সেন্টারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু এবং একটি জাতীয় নবজাতক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় কার্যকর সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

গোলটেবিলে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. মো. মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর বড় অংশই নবজাতক পর্যায়ে ঘটে। প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক অপরিণত ও কম ওজনের শিশু জন্ম নেয়, যাদের জন্য বিশেষায়িত শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়তা, নিবিড় পরিচর্যা ও দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ প্রয়োজন হয়।

তিনি জানান, দেশের অনেক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এখনও পর্যাপ্ত স্ক্যানু ও এনআইসিইউ শয্যা, সিপ্যাপ সুবিধা, হাইপো-থাইরয়েড নবজাতক স্ক্রিনিং ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী এবং কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। ফলে প্রতিরোধযোগ্য নবজাতক মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।

বক্তারা বলেন, জন্মের সময় মা-হারানো, পরিত্যক্ত ও গুরুতর অসুস্থ নবজাতকদের জীবন রক্ষায় দেশের প্রথম শরিয়াহসম্মত হিউম্যান মিল্ক স্টোরেজ সেন্টার সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ কেন্দ্র নিরাপদ ও ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে মানবদুগ্ধ সংরক্ষণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

সভায় জাতীয় পর্যায়ে এনআইসিইউ ও সিপ্যাপ সুবিধা সম্প্রসারণ, কমিউনিটি ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার জোরদার, জরুরি নবজাতক রেফারেল ও পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, হাইপো-থাইরয়েড স্ক্রিনিং চালু এবং জাতীয় নবজাতক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, সরকারের একার পক্ষে সব কার্যক্রম বাস্তবায়ন কঠিন হলেও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে তা সম্ভব।

বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান, প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের পরিচালক ডা. সৈয়দ কামরুল হাসান, আশুলিয়া উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন হাসপাতালের একাডেমিক ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. সুফিয়া খাতুন, বিএনএফের ইলেক্ট প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. শরিফুন নাহার, আইসিডিডিআর’বির বিজ্ঞানী আহমেদ এহসানুর রহমান, ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ এমদাদুল হক, প্রজন্ম রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও বিজ্ঞানী হলেন ডা. সালাহউদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুন

×