সাক্ষাৎকার: সঞ্জীব দ্রং
মন্ত্রীর পদত্যাগ পাহাড়িদের মনে ক্ষত তৈরি করেছে
সঞ্জীব দ্রং
হকিকত জাহান হকি
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ০৮:৩৭ | আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ | ১১:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সাড়ে তিন মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। এতে দেশের আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে নানামুখী প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সার্বিক বিষয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হকিকত জাহান হকি
সমকাল: পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
সঞ্জীব দ্রং: মন্ত্রী হিসেবে দীপেন দেওয়ানের নিয়োগটা ভালো ছিল। পাহাড়ে তাঁর ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও জনপ্রিয়তা আছে। দায়িত্ব পালন করে যেতে পারলে পাহাড়ের মানুষ উপকৃত হতো। তিনি অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগ করেছেন। প্রথমে এটি আমি বিশ্বাস করতে চাই। কারণ, এমনটা মানুষের জীবনে হতে পারে। আমি তাঁর সুস্থতা কামনা করি। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম যেহেতু তিনটি জেলা নিয়ে, তাই এটি একটি আঞ্চলিক প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়। এই তিন জেলার জন্য একজন মন্ত্রী থাকেন, যাকে পাহাড়িদের মধ্য থেকে দিতে হয়। এবার পাহাড়ের বাইরে থেকে প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয়েছে– এটি নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির সঙ্গেও এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি পাহাড়ের মানুষের চিন্তা-চেতনা, সংস্কৃতি, আশা-আকাঙ্ক্ষার বাইরে। এমন পদক্ষেপ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে জটিল এক প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে। এই মন্ত্রণালয় গঠিত হয়েছে বিশেষ প্রেক্ষাপটে। তাই আমি মনে করি, নতুন সরকারকে এই জটিল পরিস্থিতির দিকে না যাওয়াই ভালো ছিল।
সমকাল: দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পেছনে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিরোধ, সমন্বয়হীনতার কথা বলেছেন অনেকে। আপনি কী মনে করেন?
সঞ্জীব দ্রং: এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। তবে সামাজিক মাধ্যমে তাদের বিষয়ে নানা ধরনের লেখালেখি হচ্ছে। এসবের মধ্য থেকে যদি কিছু বিষয়ও সত্য হয়, সে ক্ষেত্রে আমি মনে করি এটা বাঞ্ছনীয় নয়, উচিতও নয়। এই সরকারের সময়ে এমনটা অপ্রত্যাশিত।
সমকাল: মন্ত্রীর পদত্যাগের পেছনে পার্বত্য অঞ্চল, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাব আছে বলে মনে করেন কি?
সঞ্জীব দ্রং: পার্বত্য চট্টগ্রাম জাতীয়ভাবে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার উন্নয়ন, পরিস্থিতি, শান্তি প্রতিষ্ঠা জাতীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবার আন্তর্জাতিকভাবেও এটা গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে, এখানে জাতিগত সংখ্যালঘু মানুষের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম চলমান। তাদের ভূমির অধিকার, মানবাধিকার, সংস্কৃতি– সর্বক্ষেত্রে অবশ্যই আন্তর্জাতিক দৃষ্টি রয়েছে। সেই বিবেচনায় আমার অনুরোধ থাকবে, সরকার যেন সব সময় পার্বত্য চট্টগ্রামকে ইতিবাচকভাবে দেখে।
সমকাল: স্বল্প সময়ের মধ্যে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
সঞ্জীব দ্রং: এটি সরকারি প্রক্রিয়ার ব্যাপার। এ নিয়ে মন্তব্য না করাই শ্রেয়।
সমকাল: দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর পাহাড়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে। তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশও হয়েছে।
সঞ্জীব দ্রং: তাঁর আকস্মিক পদত্যাগে পাহাড়ের মানুষ আশাহত। সাবেক এই মন্ত্রীর কাছে তাদের হয়তো অনেক প্রত্যাশা ছিল। আশা ছিল, তিনি পাহাড়ি-বাঙালিদের ভাগ্যোন্নয়নে অনেক অবদান রাখবেন। এ ক্ষেত্রে তারা একটা হোঁচট খেয়েছে। এ নিয়ে পাহাড়িদের মনে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা যেন সরকার বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে দূর করে।
সমকাল: আপনাকে ধন্যবাদ।
সঞ্জীব দ্রং: সমকালকেও ধন্যবাদ।
