ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন

ডেঙ্গু মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন

ডেঙ্গু মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন
×

 অমিতোষ পাল

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৭ | আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ | ১২:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের জীবাণুবাহী এডিস মশার মৌসুম শুরু হলেও রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) গতানুগতিক কিছু কাজ করলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মাঠের কার্যক্রমে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। 

মাঠের কার্যক্রম গোছাতে না পারলেও এডিস মশার ঘনত্ব নির্ণয়ে ডিএসসিসি জরিপ কাজ শেষ করেছে। জরিপ প্রতিবেদনটি আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশের কথা। জরিপের ভিত্তিতেই সংস্থাটি মাঠ পর্যায়ে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে যাবে। বিপরীতে ডিএনসিসি এবার কোনো জরিপই করেনি। গত বছরের ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ মনে করে ধারণার ওপর গত মার্চ থেকে নানা কার্যক্রম চালাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অতীতে ডেঙ্গু মৌসুম শুরুর আগেই উভয় সিটি করপোরেশনের তরফে বিশেষ কিছু কার্যক্রম চালানো হতো। এর মধ্যে ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনসচেতনতা বাড়ানো, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও লিফলেট বিতরণ। এবার সেটা হয়নি। 

এ ছাড়া তারকা, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, মসজিদ-মন্দিরের ইমাম-পুরোহিতকে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ প্রচারাভিযানে সম্পৃক্ত করা হতো। তেমন কার্যক্রম এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।  দুই সিটি করপোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, জনপ্রতিনিধি না থাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি এবারও খারাপ হতে পারে। কারণ কাউন্সিলর থাকলে তারা মাঠ পর্যায়ে কঠোরভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারতেন। 

মশক বিশেষজ্ঞ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার সমকালকে বলেন, এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা খরচ ৮০ শতাংশ বহনের নির্দেশনা দিয়েছেন। মন্ত্রণালয় কয়েকটি সভা করেছে। এগুলোতে আমি তুষ্ট। তবে মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতিতে তুষ্ট হতে পারছি না। সমন্বিতভাবে যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়, সেটা করা হয়নি। 

ডিএসসিসির জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ আজ
ডিএসসিসি দাবি করেছে, এরই মধ্যে তারা একটি জরিপের কাজ শেষ করেছে। আজ তার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। আগামী শনিবার শুরু হবে মাঠ পর্যায়ে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। পাশাপাশি সরকারের তরফে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে তিন মাসের যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, সেটার সঙ্গে যুক্ত হবে সংস্থাটি। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিন মাস পরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে রাজধানীর এডিস মশার ঘনত্বের জরিপ পরিচালনা করা হয়। তবে আর্থিক সংকটের কারণে এবার সেটা হয়নি। পরে ডিএসসিসি নিজস্ব অর্থায়নে একটি জরিপের উদ্যোগ নেয়। সেই জরিপে প্রায় ২০টি ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্বের উদ্বেগজনক অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এসব ওয়ার্ডকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে সংস্থাটি। 

ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন সমকালকে বলেন, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে আগে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালানো হবে। তবে জরিপে লার্ভার ঘনত্বের যে তথ্য উঠে এসেছে তা উদ্বেগজনক নয় বলে মনে করেন তিনি। 

ডিএনসিসি জরিপ না করেই কার্যক্রমে
ডিএনসিসি এবার কোনো জরিপ করেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও কোনো তথ্য না পাওয়ায় গত বছরের ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোকে এবারও তারা মনে করছে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’। গত ১৪ মার্চ থেকে এ রকম ২৫টি ওয়ার্ডে তারা অভিযান শুরু করে। গ্লোবাল হেলথের আর্থিক সহযোগিতায় আইইডিসিআর এবং ব্র্যাককে সঙ্গে নিয়ে ডিএনসিসি এ অভিযান চালায়। ওইসব ওয়ার্ডে প্রতিদিন তিন প্রতিষ্ঠানের ২৫ কর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশার লার্ভার অস্তিত্ব পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় লার্ভিসাইডিং, অ্যাডাল্টিসাইডিং এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওইসব ওয়ার্ডের জলাশয়ে থাকা কচুরিপানাও অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি গত ১০ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত মশক বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে করা হয় ট্রাকযোগে রোড শো। 

ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান সমকালকে বলেন, ডেঙ্গুর জন্য আগাম প্রস্তুতি দরকার। একবার ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়লে আর নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এ জন্য ডিএনসিসি আগেই প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে। এখন নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। এ ক্ষেত্রে বেশি প্রয়োজন জনসচেতনতা। 
 

আরও পড়ুন

×