ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ অসাংবিধানিক, দুর্নীতিসহায়ক: টিআইবি

কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ অসাংবিধানিক, দুর্নীতিসহায়ক: টিআইবি
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ২০:৪১

কালোটাকা বিনাপ্রশ্নে বৈধ করা এবং পাচারের সম্পদ ফিরিয়ে আনলে নিঃশর্ত ক্ষমার যেসব বিধান আসন্ন বাজেটে থাকতে পারে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বৃহস্পতিবার বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, কালোটাকা বৈধ করার অসাংবিধানিক, দুর্নীতিসহায়ক ও বৈষম্যমূলক সুযোগ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতিকে আইনগত সুরক্ষা ও বিচারহীনতা দেওয়ার শামিল।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আবাসন খাতে স্থবিরতা দূর, শিল্পখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার অজুহাতে এ জাতীয় দুর্নীতিসহায়ক সুযোগ প্রদান সরকারের জন্য আত্মঘাতী, যা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি ও অনিয়মকে স্বাভাবিকতায় পরিণত করার নামান্তর। এই সুযোগ চিরতরে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর যে পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার পর প্রায় প্রতিটি সরকার কোনো না কোনো পন্থা অবলম্বন করে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার নামে সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদ-পরিপন্থী বিধান অব্যাহত রেখেছে। এ ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হয় বিগত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে। কখনও বিনাপ্রশ্নে, আবার কখনও নিয়মিত করহারের চেয়ে তুলনামূলক কম হারে দুর্নীতিবাজদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক এই অনৈতিক চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হয়।

এতে লাভ হয়নি বলে মনে করে টিআইবি। সংস্থাটি বলছে, তখনও স্বল্পমেয়াদি আর্থিক লাভ-ক্ষতির খোঁড়া যুক্তি দেওয়া হতো, কিন্তু প্রকৃতার্থে এর ফলে দেশে কর ফাঁকি এবং সৎ ও বৈধ আয়ের ব্যক্তি করদাতাকে নিরুৎসাহিত করার সংস্কৃতিটি ক্রমান্বয়ে দৃঢ়তর হয়েছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কালোটাকা সাদা করার বিধান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন ধাপে বন্ধ করলেও বর্তমান সরকারের তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা এক ধাপ এগিয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে পড়ার মতো। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অঙ্গীকার করে নির্বাচিত সরকারের এই অনৈতিক ও আত্মঘাতী চর্চা পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে কী বার্তা দিতে চাইছে?’

জুলাই জাতীয় সনদে সব দল একমত হয়েছে, আর কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হবে না। এই ঐকমত্যের কথা স্মরণ করিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দুদক সংস্কারসহ দুর্নীতির সঙ্গে আপস না করার অঙ্গীকার করেছে। অথচ প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, আবাসন খাতের লবির প্রভাবে আসন্ন বাজেটে দুদক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ অন্য যেকোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থার প্রশ্ন করার সুযোগ না রেখে পূর্ণ দায়মুক্তি দিয়ে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হবে। অথচ বিএনপি দুদক সংস্কারে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ চিরতরে বন্ধের সুপারিশে একমত হয়েছিল।

সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার সরকারের পরিকল্পনা উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, বিদেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের টাকা ফেরত আনার আন্তরিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সরকার যদি এই পরিকল্পনা করে থাকে, তা হতে পারে। তবে যাঁরা অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত, তাঁরা যেন এ সুযোগ নিতে না পারেন। অর্থ পাচারের কারণে যাঁদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, তাঁদেরকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। তাঁদের জন্য কোনো বিবেচনায়ই যেন সাধারণ ক্ষমা প্রযোজ্য না হয়, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন

×