ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

এক দিনের মাথায় সিদ্ধান্ত বদল

নিম্ন আয়ের ৬৫% গ্রাহকের বিদ্যুৎ আগের দামেই

ভর্তুকি বাড়বে ৭০০ কোটি টাকা

নিম্ন আয়ের ৬৫% গ্রাহকের বিদ্যুৎ আগের দামেই
×

 সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৮:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণার মাত্র এক দিনের মাথায় একটি সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবাসিক খাতের লাইফলাইন বা প্রান্তিক (০-৫০ ইউনিট) এবং প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) গ্রাহকদের বাড়তি দর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ সাধারণ ও নিম্ন আয়ের গ্রাহককে আর বাড়তি বিল দিতে হবে না।  ওই দুই শ্রেণিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল যথাক্রমে ৬৯ পয়সা ও ৯২ পয়সা। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম সংশোধনের এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে অন্যান্য শ্রেণির বিদ্যুতের দাম গত বুধবারের ঘোষণা অনুযায়ীই থাকছে। তবে ০-৭৫ ইউনিটের বাড়তি দাম প্রত্যাহারের এই সুবিধা সব গ্রাহকই পাবেন। কারণ বিদ্যুৎ বিল করার সময় ধাপ অনুসরণ করে হিসাব করা হয়। ফলে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিল আগের দামেই হিসাব হবে।

এখন থেকে লাইফলাইন গ্রাহকরা আগের মতোই প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ চার টাকা ৬৩ পয়সা দরে বিল দেবেন। আর প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) গ্রাহকের জন্য প্রতি ইউনিটের দাম থাকবে পাঁচ টাকা ২৬ পয়সা। প্রান্তিক মানুষের এ দুই ধাপে দাম না বাড়ায় বিদ্যুতের সামগ্রিক গড় দাম ১০ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে কমে ১০ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছে। এর ফলে বিতরণ সংস্থাগুলোর যে ঘাটতি হবে, তা পূরণে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। এর পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

আবাসিকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ অনুযায়ী ছয়টি ধাপ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হলো, ০ থেকে ৫০ ইউনিট (লাইফলাইন) এবং দ্বিতীয় ধাপ হলো, ০ থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত। সাধারণত নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির গ্রাহক এই দুই ধাপে অন্তর্ভুক্ত। 
গত বুধবার পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়। নতুন দাম এই মাস থেকেই কার্যকর হয়েছে। 

বিইআরসি জানিয়েছে, প্রথম দুই ধাপে আগের দামে ফিরতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডসহ (আরইবি) বিভিন্ন বিতরণ সংস্থা আবেদন করেছিল। তাদের সেই অনুরোধ ও গণশুনানি বিবেচনা করেই এই সংশোধিত আদেশ দেওয়া হলো। মূলত সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি খরচের চাপ কমাতে এবং সামাজিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 
বিতরণ কোম্পানিগুলো গতকালই কমিশনে আবেদন করেছিল। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছিল। 
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে লাইফলাইন গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৭৮ লাখ। এদের বড় অংশই গ্রামে থাকেন এবং নামমাত্র বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। লাইফলাইনসহ প্রথম এ দুই ধাপের গ্রাহক মোট গ্রাহকের প্রায় ৬৫ শতাংশ। এরা সাধারণত একাধিক বাতি এবং একটি বা দুটি পাখা চালান। 

আরও পড়ুন

×