আদ্-দ্বীন বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে ব্যবস্থা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ১৯:৩৩ | আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ | ২০:৫৫
রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তদন্তে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, হাসপাতালকে দেওয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ আইন ও বিধিমালা অনুসারেই জারি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে লাভ নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতেই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে কিংবা জবাব না দিলে আইনে যা আছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২৭ মে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও বিভিন্ন অনিয়মের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে জানতে চেয়েছে, কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল স্থাপনা-সংক্রান্ত বিধিমালা, আইনের বিভিন্ন ধারা এবং প্রাসঙ্গিক বিধিবিধান পর্যালোচনা করে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি জানান, হাসপাতালটির জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের দেওয়া শোকজ নোটিশ আইনসম্মত নয়। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে মধ্যস্থতাকারী আইনজীবী শিশির মনির আজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নোটিশটি সংশ্লিষ্ট আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং হাসপাতাল এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে। তবে এ দাবির জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নোটিশটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, একটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। ছয়টি নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হাসপাতালের লাইসেন্স দেওয়ার কর্তৃপক্ষ আমরা। তদন্তে অনিয়ম ও অবহেলার বিষয় উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গত তিন বছর ধরে অগ্নিনিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হয়ে আসছে। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজ নিজ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নবজাতকদের মৃত্যুকে ‘অপ্রত্যাশিত অবহেলার’ ফল বলে উল্লেখ করেছে। তাদের গঠিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে একজন নার্স ও একজন কর্মচারীর পেশাগত দায়িত্ব পালনে ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আজ রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আজীবন বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, উপযুক্ত চাকরির সুযোগ এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দায়ীদের শাস্তি চাইলেও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ হোক, তা চায় না।
নবজাতকদের একজনের বাবা ও মামলার বাদী হাবিবুর রহমানও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আমরা দায়ীদের শাস্তি চাই। কিন্তু হাসপাতাল বন্ধ হয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হোক, সেটাও চাই না।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো আর্থিক সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, ঘোষিত সুবিধাগুলো ছাড়া তারা অন্য কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি। সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ এবং কেন শুধু শিশির মনির বক্তব্য দিচ্ছেন- এমন প্রশ্ন ওঠায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর সাংবাদিকদের কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দেন।
- বিষয় :
- রাজধানী
