মোংলা
সার্ভারে ‘ত্রুটি’, এক মাস ধরে বন্ধ ভোটার স্থানান্তর
প্রতীকী ছবি
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ২১:৫৯ | আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ | ২২:৪০
ভোটার স্থানান্তরের জন্য বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা নির্বাচন অফিসে গত ১৩ মে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন গৃহিণী শামীমা বেগম রুনু। তবে প্রায় এক মাস হতে চললেও শনিবার পর্যন্ত তাঁর মোবাইল ফোনে আবেদনসংক্রান্ত অগ্রগতির তথ্য জানিয়ে কোনো এসএমএস আসেনি। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে একাধিকবার নির্বাচন অফিসে গিয়েছেন রংপুর মহানগরের সেনপাড়া এই বাসিন্দা। বৈবাহিক সূত্রে তিনি মোংলার বাসিন্দা। রংপুর থেকে মোংলায় তাঁর ভোটার স্থানান্তরের বিষয়ে জানতে গেলে প্রতিবারই তাঁকে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় এক মাস ধরে এই কার্যালয়ে ভোটার স্থানান্তর (মাইগ্রেশন) কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ নাগরিকরা। জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তথ্য হালনাগাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এ সেবাসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। সার্ভার ত্রুটির কথা বলা হলেও অভিযোগ উঠেছে, মূলত অফিসের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই এই কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। অথচ নির্বাচন অফিসের অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন জানিয়েছেন, বর্তমানে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা কারণে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনকারী নাগরিকদের জন্য ভোটার এলাকা পরিবর্তন জরুরি। কিন্তু এ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেকেই সরকারি ও ব্যক্তিগত কাজে সমস্যার মুখে পড়েছেন।
একাধিক সেবাপ্রার্থীর অভিযোগ, তারা দূরের এলাকা থেকে বারবার নির্বাচন অফিসে গিয়েছেন। এতে তাদের সময়, শ্রম ও টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু কোনো কর্মকর্তাই সমস্যাটি সমাধান বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিচ্ছেন না। ফলে চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রুমা হিরা ও তাঁর ব্যবসায়ী স্বামী তরুণ চন্দ্র শুক্রবার বলেন, মোংলা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সাত নম্বর ওয়ার্ডে তাদের ভোটার আইডি স্থানান্তরের প্রয়োজন। এ জন্য ঈদুল আজহার পর নির্বাচন অফিসে যান। সেখানে তারা সব কাগজপত্র অফিসে জমা দিতে গিয়ে জানতে পারেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কবিরুল ইসলাম ১৫ দিনের প্রশিক্ষণে ঢাকায় রয়েছেন। সার্ভারের ত্রুটির কথা জানিয়ে তাদের কাগজপত্র জমা না নিয়ে শুরুতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে কাগজপত্র জমা নেওয়া হয়। তবে সার্ভার ত্রুটির বিষয় জানিয়ে এক কর্মকর্তা তাদের জানান, কবে নাগাদ প্রক্রিয়া শুরু হবে তা অনিশ্চিত।
জানা গেছে, ভোটার স্থানান্তরের তথ্য নথিভুক্ত (এন্ট্রি) করার কাজে ব্যবহৃত ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইডি বর্তমানে নিষ্ক্রিয়। নির্বাচন অফিস সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক জটিলতা বা কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতার কারণে ওই আইডিটি বন্ধ আছে। ফলে ভোটার স্থানান্তরের আবেদনগুলো সিস্টেমে নথিভুক্ত (এন্ট্রি) করা যাচ্ছে না।
এসব অভিযোগ জানিয়ে ভুক্তভোগী কয়েকজনের পক্ষে গত ২ জুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের সচিব ও খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে ইমেইল করেন। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) মোংলা উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. নূর আলম শেখ বলেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা। তাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো অভ্যন্তরীণ জটিলতায় যেন জনসেবা ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু আনছার গত বুধবার এই সমস্যার কথা স্বীকার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা সমাধান না হওয়ার কারণ বা কবে নাগাদ কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে- সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
