ঢাকা রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

বাজারে অপরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আম, রাসায়নিকে পাকানোর অভিযোগ

বাজারে অপরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আম, রাসায়নিকে পাকানোর অভিযোগ
×

ফাইল ছবি

রংপুর অফিস

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ২২:৫৪

রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙা আম পরিপক্ব হওয়ার আগেই বাজারে বিক্রি হচ্ছে। সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ২০ জুনের আগে হাঁড়িভাঙা আম গাছ থেকে নামানোর সুযোগ নেই। তবু বাড়তি লাভের আশায় একশ্রেণির ব্যবসায়ী রাসায়নিকে পাকিয়ে এসব আম বাজারজাত করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুরের মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাগান থেকে প্রতিদিন অপরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আম সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে ক্যালসিয়াম কার্বাইড (রাসায়নিক) দিয়ে (স্থানীয়ভাবে ‘পানি মারা’ পদ্ধতি নামে পরিচিত) আম পাকিয়ে রংপুর নগরীর সিটি বাজার, বাস টার্মিনাল এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসব আম বিক্রি করা হচ্ছে।

আমগুলো পাকা ও আকর্ষণীয় দেখালেও কয়েকজন ক্রেতার অভিযোগ, এসব আমে হাঁড়িভাঙার স্বাভাবিক স্বাদ ও ঘ্রাণ নেই। নগরীর সিটি বাজারে আম কিনতে আসা ক্রেতা ইমতিয়াজ আলী (৫৪) বলেন, ‘হাঁড়িভাঙা আম পাকা ভেবে কিনেছিলাম। কিন্তু বাড়িতে নিয়ে কেটে দেখি খুব টক, ভেতরে কাঁচাভাব রয়ে গেছে। আম কাটলেই বোঝা যাচ্ছে তা কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছে।’

রংপুরের বুড়িরহাট আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. কামরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে সমকালকে বলেন, ‘ফল পাকাতে খুব বেশি প্রয়োজন হলে ইথিলিন ব্যবহার করা যেতে পারে। এটা স্বাস্থ্যের জন্য তেমন ক্ষতিকর নয়। কিন্তু আমাদের এলাকায় কতিপয় অসাধু ব্যক্তি ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে আম পাকাচ্ছে। এটা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে ক্যান্সারের ঝুঁকিসহ কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একটি চক্র আগে থেকেই ফল পাকাতে এই ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে আসছে। এসব ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।’

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২০ জুনের আগে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃত হাঁড়িভাঙা আম গাছ থেকে সংগ্রহ বা বাজারজাত করার অনুমতি নেই। কারণ ২০ জুনের আগে হাড়িভাঙা আম পরিপক্ব হয় না। তবু একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় এসব অপরিপক্ব আম গাছ থেকে পেড়ে কৃত্রিম উপায়ে পাকিয়ে বাজারে বিক্রি করছে। এসব আম কিনে অনেকে প্রতারিত হচ্ছেন।

হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে চাষ হলেও জেলার মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জে বেশি হয়।

মিঠাপুকুরের বড় আম চাষি মাহফুজার রহমান বলেন, সাধারণত ১৫ জুনের পর থেকে হাঁড়িভাঙা আম পরিপক্ব হতে শুরু করে। তাই গাছ থেকে আম সংগ্রহ এবং বাজারজাত করার জন্য প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়ই সঠিক। অপরিপক্ব আম কৃত্রিম উপায়ে পাকিয়ে বাজারজাত করায় হাঁড়িভাঙার স্বাদ ও সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

হাঁড়িভাঙা আম চাষি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম বাবলু বলেন, ২০ জুনের আগে অপরিপক্ব আম বাজারে আসায় প্রকৃত হাঁড়িভাঙা আম সম্পর্কে ক্রেতাদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন চাষিরা। কতিপয় অসাধু লোক নির্ধারিত সময়ের আগে কৃত্রিম উপায়ে আম পাকিয়ে বিক্রি করছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এতে চাষিদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘২০ জুনের আগে হাঁড়িভাঙা আম পরিপক্ব হয় না। এ কারণে আমচাষি ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করার জন্য আমরা ২০ জুন নির্ধারণ করে দিয়েছি। এ সময়ের আগে আম সংগ্রহ করে কৃত্রিম উপায়ে পাকানো হলে এর স্বাদ ও গুণগত মান নষ্ট হয়। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এসব আম কৃত্রিম উপায়ে পাকিয়ে যদি বাজারে বিক্রি করা হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় তিন হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙা আমের বাগান আছে এক হাজার ৯০৫ হেক্টর জমিতে। এবার এই জাতের আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৯ হাজার ৭১০ টন।

আরও পড়ুন

×