বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে বাসের হেলপারকে মারধরের অভিযোগ, সড়ক অবরোধ
ছবি: সমকাল
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ২২:৩৯ | আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ | ২৩:০৬
জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিন্তা এলাকায় বিজিবি সদস্যদের হাতে এক বাসের হেলপার মারধরের শিকার ও চালক লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে জড়িত বিজিবি সদস্যের শাস্তি দাবিতে জয়পুরহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় ২ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। পরে প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে দুপুর ২টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয় এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শনিবার সকালে ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিন্তা বাজার এলাকায় মারধরের এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট বাস শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্ষেতলালের নিশ্চিন্তা এলাকায় পৌঁছালে চেকপোস্টে থামার জন্য সংকেত দেন বিজিবি সদস্যরা। সামনে কিছুটা যানজট থাকায় বাসটি সংকেতের স্থান থেকে সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিজিবির কয়েকজন সদস্য এসে বাসের হেলপার সাদ্দাম হোসেনকে মারধর শুরু করেন। এ সময় বাসের চালক এগিয়ে এলে তাঁকেও লাঞ্ছিত করা হয়।
পরে বাসটি জয়পুরহাট টার্মিনালে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীরা বিষয়টি শ্রমিক নেতাদের জানান। এর পরিপ্রক্ষিতে ক্ষুব্ধ পরিবহন শ্রমিকরা বাস ও বিভিন্ন যানবাহন জয়পুরহাট প্রধান বাসস্ট্যান্ড ও প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। সড়ক অবরোধের কারণে চারপাশের সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই তীব্র গরমের মধ্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে তারা বিক্ষুব্ধ শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে দুপুর ২টার দিকে শ্রমিকরা ব্যানার সরিয়ে নিয়ে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নূরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন, জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল ইসলাম, জয়পুরহাট জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি গোলাম মর্তুজা শিপলু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক উম্মত আলী হিম্মতসহ অন্য শ্রমিক নেতারা।
