দলীয় প্রভাবমুক্ত ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের নির্দেশ অর্থমন্ত্রীর
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ১৫:৩৭
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব বা পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি চলবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে রাষ্ট্রীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কর্মসূচির বাস্তবায়ন কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর উপকারভোগীদের তালিকা হালনাগাদ করা হবে।
সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির চতুর্থ সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রশাসনিক ব্যয় পর্যালোচনা ও অনুমোদন, ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন (সংশোধন) গাইডলাইন-২০২৬ চূড়ান্তকরণ এবং ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬ এর খসড়া পর্যালোচনা করে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় এসে বিএনপি যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করেছে, তার বাস্তবায়ন কার্যক্রম প্রতি ছয় মাস অন্তর পর্যালোচনা করা হবে। এছাড়া প্রতি চার বছর পর উপকারভোগীদের তালিকা হালনাগাদ করা হবে, যাতে সচ্ছল হয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা তালিকা থেকে বাদ পড়েন এবং নতুন যোগ্য পরিবারগুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।
তিনি বলেন, 'কে কোথায় কীভাবে এই কর্মসূচির অর্থ ব্যয় করছে, তা ছয় মাস পরপর মূল্যায়ন করা হবে। আমরা চাই না সুবিধাভোগীদের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী তৈরি হোক। অর্থনীতির সুফল দেশের সব মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে।'
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো দরিদ্র ব্যক্তির স্ত্রী মারা গেলে তিনি অন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা পেতে পারেন। 'তিনি কৃষক কার্ড পেতে পারেন, ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ারের সুবিধা পেতে পারেন, বয়স্ক ভাতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেন, বলেন তিনি।
তবে কেবল ভাতাভিত্তিক বা কার্ডনির্ভর ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে কর্মক্ষম ও আত্মনির্ভরশীল দেশ গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।
এদিকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি থেকে কোনো পরিবার বাদ পড়বে না এবং বাদ পড়ার সুযোগও নেই। মাঠপর্যায়ে ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কর্মসূচির নীতিমালা সংশোধন ও উন্নয়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
