স্মরণসভায় ড. কামাল হোসেন
বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার সুযোগ দিয়েছে গণঅভ্যুত্থান
মোস্তফা মহসীন মন্টুর স্মরণসভায় গতকাল সোমবার ড. কামাল হোসেনসহ অতিথিরা সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিএনপি সরকারকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার সুযোগ এসেছে। আশা করি, বিএনপি সরকার এ বিষয়ে সজাগ থাকবে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে গণফোরামের সাবেক সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মোস্তফা মহসীন মন্টুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দলটি আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন। গুরুতর অসুস্থ এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান।
সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে গুম, খুন ও জবাবদিহিহীন অপশাসনের পর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে না পারার কারণে গণঅভ্যুত্থানের সেই আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। এর ব্যত্যয় হলে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হবে না।
নিজ দলের সহকর্মী মোস্তফা মহসীন মন্টুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ড. কামাল বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে মোস্তফা মহসীন মন্টু অমর হয়ে থাকবেন। নব্বইয়ের স্বৈরশাসকবিরোধী গণঅভ্যুত্থান ও চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
স্মরণসভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, স্বাধীনতার ৫৬ বছর পরও এখন পর্যন্ত দেশে একটি সঠিক ইতিহাস তৈরি হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে একেকজন একেকভাবে দেখছে। নিজেদের কৃতিত্বকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করেছে। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে মুক্তির চেতনা। সেই চেতনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সবচেয়ে বড় লড়াই করতে হবে।
সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এত বড় গণঅভ্যুত্থানের পরও কী দেশের মানুষ সন্তোষজনক অবস্থায় আছে? ৫৬ বছর আগে যাদের দেখতে পারতাম না, ৫৬ বছর পর তাদের সঙ্গেই হাসিখুশিভাবে সভা করতে হচ্ছে। সংসদেও তাদের দেখতে হচ্ছে। জীবনে যারা কোনোদিন আন্দোলন করেনি, তাদেরও আজ সামনের সারিতে দেখা যাচ্ছে। এত বড় একটা লড়াইয়ের পর আমাদের একটাই চাওয়া, সবার জন্য একটি সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ। এ দেশে যত নীতি প্রণীত হবে, সব নীতিই হবে জনগণের কল্যাণে।
গণফোরাম নেতা ড. কামালের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না আরও বলেন, যারা ক্ষমতায় ও বিরোধী দলে আছে, তারা কী পাঁচ বছর পার করতে পারবে? না-কি তাদের বিরুদ্ধেও আরেকটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান হতে পারে? সেটা না হলে পাঁচ বছর পর যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে গণফোরামসহ আমরা যারা একসঙ্গে লড়াই করেছি, তারা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সবাই মিলে যদি এক হতে পারি, সুস্থ ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তাহলেই মোস্তফা মহসীন মন্টুর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।
বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর আমরা সাম্প্রদায়িক ও সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তির খপ্পরে পড়েছি। মোস্তফা মহসীন মন্টু ছিলেন এই অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যের প্রতীক।
গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্মরণসভায় প্রয়াত মোস্তফা মহসীন মন্টুর মেয়ে প্রকৌশলী শ্রাবণী মোস্তফা তাঁর বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাসানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধকালীন ঢাকা মহানগর কমান্ডার শফিকুর রহমান, গণফোরাম নেতা এসএম আলতাফ হোসেন, একেএম জগলুল হায়দার আফ্রিক, সুরাইয়া বেগম প্রমুখ।
- বিষয় :
- স্মরণসভা